মাহবুব সৈকত :

এফডিসির কথা শুনলেই মনের পর্দায় ভেসে উঠে রুপালী পর্দার শিল্পী, কলা কুশলীদের কথা। এক সময় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের পদচারণায় এফডিসি মুখর থাকলেও এখন তা অনেকটাই নিস্প্রভ। বিশ্লেষকদের মতে ,রুপালী পর্দার সেই দিন আর নেই।

ছোট ছোট চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পী আর পর্দার পিছনে কাজ করার কুশলীরা অপেক্ষায় থাকে এই বুঝি ডাক পরবে। কাজের অভাবে অনেকেই হয়ে পড়েছে অসহায়। অন্যদিকে অনেক গুণীজনের বার্ধক্য কাটছে অর্থ সংকটে, পাশে নেই সহকর্মীরাও। রুপালী জগতের খন্ড খন্ড এমন চিত্রই তুলে ধরা হয়েছে আমাদের চোখ এর এবারের আয়োজনে ।

রিপোর্টার: মাহবুব সৈকত

সুনশান নীরবতা, ব্যস্ততা কিংবা তাড়া নেই কারো মধ্যেই। সময় কাটছে অলস আড্ডায়। দেশের রূপালী জগতের সুতিকাগার এফডিসির প্রায় নিত্য দিনেরই দৃশ্য এটি। শ্যূটিং থাকলে দেখা মেলে নায়ক – নায়িকা বা খ্যাতনামাদের। তবে প্রতি দিনই তীর্থের কাকের মত এফডিসি চত্বর চষে বেড়ান ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পী এবং কলা কুশলীরাও।

এফডিসির প্রতি ভালোবাসা টেনে আনে বলে বলা হলেও জীবন এবং জীবিকার প্রয়োজনই বড় কারণ। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক চলচ্চিত্রে কাজ করেও পরিবর্তীত পরিস্থিতি ভাবিয়ে তুলছে অনেক কলা কুশলীকে।

এক সময়ে অভিনয় গুনে দর্শক নন্দিত অনেকেই এখন আর এফডিসিমুখী নন। বয়ে গেছে সোনালী সময়, অসুস্থতায়ও অনেক সময় দেখা মেলে না সমসাময়িক কিংবা বর্তমান সময়ের শিল্পীদের।

যৌবন যত দিন, কদর ততদিন। ঢাকাই চলচ্চিত্রে এমন কথাই নাকি বেশি প্রচলিত। দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে ভালো কাজ করতে চান অনেকেই, তবে বেশির ভাগরই পূরণ হয় না প্রত্যাশা।

খ্যাতনামা অনেক শিল্পী ও কলা কুশলী মারা গেলে পাশে দেখা যায় না সহকর্মীদের। যা দাগ কাটছে সবার মনে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতির সাধারন সম্পাদক ইকবাল করীম নিশান বলেন, প্রত্যাশিত চলচ্চিত্র অঙ্গন বিনির্মাণে সরকারের পাশাপাশি অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে শিল্প সংশ্লিষ্টদের ।

চলচ্চিত্র পরিবারের সমন্বয় এবং এগিয়ে নিতে শিল্পী সমিতির দায়িত্ব কম নয়, যদিও এই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব বেশ কিছুদিন খোরাক যোগাচ্ছে দর্শক সাধারণের মুখরোচক আলোচনার।

চলচ্চিত্রকে এগিয়ে নিতে বর্তমান নেতৃত্ব কি ভাবছেন, তা জানতে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খানের অফিসে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পরও শেষ পর্যন্ত তিনি দেখা করেননি। কেবলমাত্র দায়িত্বপূর্ণ  পদে থাকার কারণেই তার জন্য অপেক্ষার সময়ও ছিল উল্লেখ করার মত।

তবে শ্যূটিং বা সাংগঠনিক কাজে নয়, আড্ডায় ব্যস্ত নায়ক, তাই বক্তব্য না নিয়ে অবশেষে করতে হয় মাই টিভির সাংবাদিকদের। তারপরও সবারই প্রত্যাশা, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুদিন ফিরে আসবে চলচ্চিত্রের এই সূচিকাগারের ।