লকডাউনের ফল পাচ্ছে ইতালি তিন সপ্তাহ পর

0
1011

চীনের পর করোনা সবচেয়ে ভয়াল থাবা বসিয়েছে ইতালিতে। এই মারণ ভাইরাসের কালো থাবায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দেশটি। প্রতিদিনই দেশটিতে শত শত মানুষ মারা যাচ্ছেন। আক্রান্তও হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় ইতালিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সাতশ ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার দু’শ ১৭ জন। আর মোট আক্রান্তের সংখ্যাটি দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ছয়শ ৮৯ জনে। ১৩ হাজার ৩০ জন এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

মৃত্যুপুরীতে ইতালিতে তিন সপ্তাহ ধরে চলছে লকডাউন। আর সেই লকডাউনের ফল পাচ্ছে ইতালি। মৃত্যুর সংখ্যা, গুরুতর আক্রান্তের সংখ্যা এবং ইতালিতে করোনাভাইরাসের নতুন সংক্রমণ; সবই করোনার দুঃসময়ে আশা দেখাচ্ছে। ইতালিয়ান সরকারের উপদেষ্টা লুকা রিচেল্ডি রবিবার জানান, করোনা আক্রান্তের কারণে নতুন করে ইনটেনসিভ কেয়ারে নেওয়া রোগীর সংখ্যা কমছে। শনিবার একশ ২৪ জনকে ইনটেনসিভ কেয়ারে নেওয়া হয়। কিন্তু রবিবার মাত্র ৫০ জনকে নেওয়া হয় ইনটেনসিভ কেয়ারে।

ইতালিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যাও কমেছে। শনিবারের দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল পাঁচ হাজার নয়শ ৭৪ জন। কিন্তু রবিবারের নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ হাজার দু’শ ১৭ জন। মৃত্যুর হারও ধীরে ধীরে কমছে। গত শনিবার করোনায় আক্রান্ত হয়ে আটশ ৮৯ জন মারা যাান। আর রবিবার মারা গেছেন সাতশ ৫৬ জন।

বর্তমানে ইতালিতেই সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেছেন। দেশটিতে ১০ হাজার সাতশ ৭৯ জন মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে ধুঁকছে দেশটির স্বাস্থ্যখাত। মেডিক্যালে পড়া ছাত্ররাও করোনা বিরুদ্ধ যুদ্ধ করে যাচ্ছে। সবাই এক সঙ্গে লড়াই করছে করোনার বিরুদ্ধে।

ইতালিতে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। লুকা রিচেল্ডি বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে একটা যুদ্ধে আছি। আমরা আমাদের আচরণের মাধ্যমে জীবন রক্ষা করছি। এইটাই হলো করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করার বড় অস্ত্র। তিনি জানান, লকডাউনে কাজ হচ্ছে। আর এই ফল আরো কড়া নিয়ম আরোপে উৎসাহ দিচ্ছে।

চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে ইতালিতে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। মানুষের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। আগামী মাসের ৩ তারিখে শেষ হবে লকডাউনের সময়সীমা। লকডাউনের ফলে সংক্রমণের মাত্রা কমে আসছে। তাই বাড়ানো হতে পারে লকডাউন। দেশটির আঞ্চলবিষয়ক মন্ত্রী ফ্রান্সেস্কো বোকিয়া বলেন, লকডাউনের সময়সীমা অবশ্যই আরো বাড়ানো হবে। আমরা সবাই স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরে যেতে চাই।