লিবিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে রাশিয়া: যুক্তরাষ্ট্র

0
427

রাশিয়ার বিরুদ্ধে লিবিয়ায় সামরিক সরঞ্জাম পাঠানোর অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।

শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, লিবিয়ায় জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশটিতে এসব সামগ্রী সরবরাহ করছে মস্কো। সংঘাতকবলিত সির্তে শহরসহ অন্যান্য স্থানে রাশিয়ার ভাড়াটিয়া সেনাদের জন্য এসব সরঞ্জাম পাঠানো হচ্ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড (আফ্রিকম) জানিয়েছে, রাশিয়ার বেসরকারি সামরিক ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওয়াগনার গ্রুপের যোদ্ধাদের সরবরাহের জন্য মস্কো থেকে সামরিক কার্গো প্লেন পাঠানো হয়েছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবিতে এর অনেক প্রমাণ মিলেছে।

এ বিষয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গ্রেগরি হাডফিল্ড (ডেপুটি ডিরেক্টর আফ্রিকম, ইন্টেলিজেন্স) বলেছেন— স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ধারনা করা ছবিতে রাশিয়ার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা লিবিয়ায় তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছে। রাশিয়ার এয়ার ডিফেন্স যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে এসএ-২২এস বর্তমানে লিবিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। যেটা সরবরাহ করছে রাশিয়ার ওয়াগনার গ্রুপ। আরো দেখা গেছে ওয়াগনারের ইউটিলিটি ট্রাক, মাইন প্রতিরোধ যন্ত্র এবং সাঁজোয়াযানও এ সংক্রান্ত ৫৭ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট সম্প্রতি মার্কিন সেনাবাহিনী জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে দাখিল করেছে। হয়তো বরাবরের মতো এবারও এই দাবি প্রত্যাখান করবে রাশিয়া।

২০১১ সালে ন্যাটোর সহায়তায় ঘটা বিপ্লবের মাধ্যমে তৎকালিন শাসক মুয়াম্মর গাদ্দাফিকে হত্যার পর থেকে লিবিয়া নানা সমস্যায় জর্জরিত। তেল সমৃদ্ধ দেশটিতে বর্তমানে জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারের দখলে রয়েছে একাংশ (রাজধানী ত্রিপোলি ও উত্তর-পশ্চিম অঞ্চল)। আর দলত্যাগী সামরিক কমান্ডার খলিফা হাফতার বাহিনী তথা লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির দখলে রয়েছে বেনগাজী ও পূর্বাঞ্চল। এই বাহিনীকে সমর্থন দিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর ও রাশিয়া। আর জাতিসংঘ সমর্থিত সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে তুরস্ক।

লিবিয়ার আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বিরুদ্ধে দেশটির বিদ্রোহী কমান্ডার খলিফা হাফতারকে সমর্থন দিতেই মূলত এসব সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এমন সময়ে রাশিয়া এ পদক্ষেপ নিলো যার কদিন আগেই হাফতার বাহিনীর সমর্থনে লিবিয়ায় সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেয় মিসরের জেনারেল সিসি সরকার।

এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বহিঃশক্তির সমর্থন নিয়ে ত্রিপোলি দখলের চেষ্টা করে আসছিল হাফতার বাহিনী। তবে লিবিয়া সরকারের আমন্ত্রণে তুরস্ক এতে যুক্ত হওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যেতে শুরু করে। ক্রমেই পিছু হটতে থাকে  হাফতার বাহিনী। এক পর্যায়ে মরিয়া হয়ে দেশটিতে হস্তক্ষেপের জন্য রাশিয়া, মিসর, ফ্রান্স ও আমিরাতের মতো দেশগুলোর শরণাপন্ন হন জেনারেল হাফতার। দৃশ্যত তার সে চেষ্টা সফল হয়েছে।