লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ; বহু মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

0
431

লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বন্দর এলাকায় দুটি বড় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরের ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণ কাঁপিয়ে দিয়েছে গোটা রাজধানী শহরকে। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। বহু মানুষের মৃত্যুর শঙ্কাও করা হচ্ছে। 

বিস্ফোরণের কারণ জানতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। পাঁচ দিনের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দেবে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বরাতে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে বন্দরের কাছে অরক্ষিত অবস্থায় সংরক্ষিত থাকা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত। যে বিস্ফোরণের ধাক্কা পুরো বৈরুতজুড়ে অনুভূত হয়েছে ভূমিকম্পের মতো।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার সংগৃহীত উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিস্ফোরণ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে তা ৩.৩ মাত্রার ভূমিকম্পের সমান।

জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আব্বাস ইব্রাহিম বলেছেন, আফ্রিকায় চালান দেওয়ার জন্য বৈরুত বন্দরে রাখা হয়েছিল ২ হাজার সাতশ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট। সেখান থেকেই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। লেবাননের উচ্চ প্রতিরক্ষা পরিষদের সভা শেষে এই মন্তব্য করেন ইব্রাহিম।

এদিকে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেবাননের প্রেসিডেন্ট মাইকেল আউন। ছয় বছর ধরে একটি গুদামে কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ২ হাজার ৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট সংরক্ষিত করা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেছেন তিনি। দায়ীদের ‘কঠোর শাস্তির’ মুখোমুখি হতে হবে বলে সতর্ক করেছেন রাষ্ট্র প্রধান এবং দুই সপ্তাহের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানান তিনি।

রাষ্ট্রপতির বাসভবনে আয়োজিত জরুরি সভা শেষে প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জানান, এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করতে পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছে তদন্ত দলকে। হতাহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনের পর বৈরুতের মেয়র জামাল ইতানি বলেন, এটা একেবারে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। আমি নির্বাক। বিস্ফোরণে কয়েক বিলিয়ন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। ইতানি বলেন, এটি লেবানন এবং বৈরুতের জন্য এক বিপর্যয়।

উল্লেখ্য, ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং আহত হয়েছেন চার হাজারের বেশি। ধ্বংসস্তুপের নিচে অনেকে আটকা থাকায় হতাহতের এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।