শতবর্ষেও সংস্কার হয়নি হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি; উৎকন্ঠায় শিক্ষক ও অভিভাবকরা

0
173

রনি আহামেদ: হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মনোরম পরিবেশে, আমের বাগান ও সবুজে বেষ্টিত সুন্দর স্থানে অবস্থিত। বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি ডিজিটাল বাংলাদেশ হলেও তার সুফল পাচ্ছে না এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় চার শতাধিক। আলাইপুর, হরিরামপুর, রামশাহ পুর, মহদিপুর ও রুপপুর এ ৫ টি গ্রামের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে বিদ্যালয়টিতে। রাজশাহীর বাঘা থানার মনিগ্রাম ইউনিয়নে শতবর্ষী এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবস্থান।

১৮১২ সালে বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা করা হলেও স্থানীয়দের সহায়তায় ১৯৭৭ সালে একবার সংস্কারের পরে আর কোনো সংস্কার করা হয়নি দুই শতাধিক আগের প্রতিষ্ঠিত এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টির।

বার বার সরকার বদল হলেও বদল হয়নি এই বিদ্যালয়ের সংস্কার। তাতে শ্রেণী কক্ষগুলো কোমলমতি শিশুদের পড়াশোনার কোনো পরিবেশ নেই।

শ্রেণী কক্ষগুলো ভাঙাচুড়া, সংস্কারের অভাবে পাঠদানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে । বহু পুরোনো হওয়ায় খসে খসে পড়ছে দেয়ালের আস্তরগুলো।

হরিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির কোড নং- ১১৩০৮০৬০২০১, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, এখানে শিক্ষকের সংখ্যা ৯ জন আর একজন পিয়ন রয়েছে।

বাঘা থানার মধ্যে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের প্রতি বছরের ফলাফলও সন্তোষজনক। সর্বশেষ ২০১৭ সালে পিএসসি পরীক্ষায় পাশের হার শত ভাগ। মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীতে অংশগ্রহণ করেছিল।

বৃষ্টির পানি দেয়াল চুয়ে চুয়ে পড়ছে

এর মধ্যে এ প্লাস পেয়েছে ৭ জন শিক্ষার্থী। আর ১৭ জন শিক্ষার্থী পেয়েছে এ গ্রেড। আনন্দের সংবাদ হলো কোনো শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়নি।

শতভাগ পাশ করা এই প্রাথমিক বিদ্যালয়টি অবহেলায় ও অযত্মেই রয়ে গেছে বলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস দাবী করেন। বার বার তাগিদ দেওয়ার পরেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংস্কারের জন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টি স্থাপিত হলেও যথাযথ দালান না থাকায় কষ্ট করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে বলেও জানান প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়ের মেঝের অবস্থা

বৃষ্টির মৌসুমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের। বৃষ্টিতে দেয়াল চুয়ে চুয়ে পানি পরতে থাকে। জরাজীর্ণ টিনের চালে পুরো দালানটি এখন আর পাঠদানের উপযুক্ততা হারিয়েছে।

টিনের চাল পুরোনো হওয়ায় ঝুঁকিতে থাকছে আশপাশের ৫ গ্রামের প্রায় চার শতাধিক কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থী।

বিদ্যালয়ের বারান্দায় যে খুঁটিগুলো রয়েছে তার অধিকাংশই ভাঙা। এর মধ্যে মাঝখানের দুইটি খুঁটি অর্ধেক ভেঙে যাওয়ায় ঝুঁকির পরিমাণ আরো বেড়েছে। যে কোনো সময় পুরোনো জরাজীর্ণ এই টিনের চালার দালানটি ধসে পড়তে পারে। এমন ঝুঁকি নিয়ে বার বার তাগিদের পরেও কোমলমতি শিশুদের নিরুপায় হয়েই পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষকরা।

পাঠদানের অনুপোযোগী শ্রেণী কক্ষে কোমলমতি শিক্ষার্থী

কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ রয়েছে বেশ বড়সড়। মনোরম পরিবেশ, আমের বাগান, সবুজে বেষ্টিত আর পাখির কিচিরমিচিরের সঙ্গে কোমলমতি শিশুদের কিচিরমিচিরে মুখরিত হয় বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণটি। এখন প্রয়োজন পুরোনো টিনের চালের ঝুঁকিযুক্ত টিনশেডের সংস্কার করে আধুনিক একটি পাঠদানযোগ্য ভবন নির্মাণের।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানায় আধুনিক দুই কক্ষের অফিস থাকলেও ক্লাসরুমগুলো উন্নত করার প্রয়োজন। তাতে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাচ্ছন্দে পাঠদান করাতে পারবেন শিক্ষকরা। আশে পাশের গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা তাদের সন্তানদেও ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো টিনশেডের ঘরে পাঠিয়ে উৎকন্ঠায় থাকে।

বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, এলজিইডি মন্ত্রণালয়ে এই বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের কোনোর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

এমন ঝুঁকি থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদে পাঠদানের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিয়ে শত বছরের পুরো এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আধুনিক ভবন নির্মাণ করার পদক্ষেপ নিলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।