শত বছরের দাসত্বের শেকল থেকে বের হতে পারেনি চা শ্রমিকরা

0
69

মাহবুব সৈকত : টিলার ভাজে ভাজে বিস্তীর্ণ চায়ের বাগান দেখতে কার না ভালো লাগে। পর্যটন এলাকায় গিয়ে এ সব বাগনে চা শ্রমিকদের সাথে স্মৃতিস্বরূপ একটা ছবি না তুলতে হয়তো ভ্রমনটাই অপূর্ণ মনে করেন অনেকেই। কিন্তু কখনো কি সময় করে শুনেছেন এ সব চা শ্রমিকের জীবনের গল্প ?

গল্পের পরোতে পরোতে রয়েছে বঞ্চনার ইতিবৃত্ত।

চারদিকে উচু নিচু টিলার ভাজে সবুজের সমারোহ। কুঁড়ি সমেত কচি দুটি পাতা পরম যতনে তুলে নেন শ্রমিকরা। দেশের ১৬২ টি বাগানে ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে কমবেশি উৎপণ্য হচ্ছে ৭০ মিলিয়ন কেজি চা। অভ্যন্তরীন চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানী হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

কিন্তু যাদের ঘাম ঝড়ানো পরিশ্রমে বিকশিত হয় চা শিল্পের সম্ভাবনা, তাদের জীবনের গল্পগুলো থেকে যায় অপ্রকাশিতই।

দিনে দিনে দেশের উন্নয়নের চাকা গতিশীল হচ্ছে যে সকল কর্মঠ হাতের স্পর্শে, চা শিল্পের প্রায় ১ লাখ ২২ হাজার শ্রমিক তাদের মধ্যে অগ্রগণ্য। কিন্তুু দিন শেষে তারা বঞ্চিত হচ্ছে শ্রমের নূন্যতম মজুরী থেকেও।

দিন শেষে সাঝের বেলায় ক্লান্ত দেহে নীড়ে প্রস্থান। প্রায় পৌনে দুই শত বছরের চা শিল্পের ইতিহাসে বংশ পরস্পরায় দাসত্বের শৃঙ্খলেই রয়েছে শ্রমিকদের জীবন।

দুবেলা দুমুঠো খাবার যোগাড়ে ই ব্যস্ত থাকতে হয় পরিবারের সব সদস্যদের, সন্তানদের লেখা পড়া আর বিনোদন যেন গরীবের ঘোড়ারোগ এরকম ব্যাপার।
ভক্সপপ:
এই কয়েক বর্গ ফুটের রুমের মধ্যেই সব সদস্যদের নিয়ে বসবাস যুগের পর যুগ, তার ও মালিকানা কোম্পানীর, দুই শতাব্দিতেও থাকার যায়গাটুকুনেও প্রতিষ্ঠিত হয়নি নিজেদের স্বত্ত্ব।

প্রতিটি চায়ের দানায় লেগে থাকে যাদের হাতের স্পর্শ, সেই শ্রমিকদের কাছে চা পানের অভিজ্ঞতা কেমন।

চা শ্রমিকদের সমাজিকতা এবং বিচার আচারে রয়েছে নিজস্ব পঞ্চায়েত, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দাবী আদায়ে সচেষ্ট না থেকে মালিক পক্ষের ক্রিড়ানকে পরিনত হওয়ারও রয়েছে অভিযোগ।

দেশের প্রতিটি চা বাগানের শ্রমিকদের গল্প খুব একটা ব্যাতিক্রম নয়। যারা প্রতিদিন ই থাকে সুন্দর জীবনের আলোর প্রত্যাশায়।