শান্তিতে নোবেল পেল ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’

0
212

এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংঘাত ও যুদ্ধকবলিত এলাকাগুলোতে ক্ষুধা নিরসনে অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরুপ সংস্থাটিকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার নরওয়ের স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩ টা) রাজধানী অসলো থেকে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি এবারের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’ জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা সংক্রান্ত শাখা। ক্ষুধা ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত বিশ্বের বৃহত্তম সংস্থা এটি। এর সদর দপ্তর ইতালির রোমে। ২০১৯ সালে সংস্থাটি ৮৮টি দেশে প্রায় ১০ কোটি মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে ডব্লিউএফপির ৮০টিরও বেশি শাখা আছে। এগুলোর মাধ্যমে এই সংস্থা এমন সব মানুষকে সাহায্য করে, যারা নিজেদের ও পরিবারের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ খাবার উৎপাদন কিংবা আহরণ করতে অক্ষম।

নোবেল কমিটি বলছে, ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াই, শান্তি প্রতিষ্ঠায় যুদ্ধ-সংঘাত কবলিত এলাকার পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসেবে ক্ষুধাকে ব্যবহার রোধ করতে চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করার জন্য ক্ষুধার বিরুদ্ধে অব্যাহত লড়াই প্রচেষ্টার স্বীকৃতিস্বরুপ সংস্থাটিকে এবার শান্তিতে নোবেল দেয়া হলো।

আরও বলেছে, ২০২০ সালের নোবেল বিজয়ী বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি খাদ্য সুরক্ষাকে শান্তির উপকরণ হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় মূল ভূমিকা পালন করেছে এবং যুদ্ধ ও সংঘাতের অস্ত্র হিসাবে ক্ষুধার ব্যবহারকে মোকাবেলায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহকে একত্রিত করার জন্য জোরালো অবদান রেখেছে।

সংগঠন ও সংস্থার মধ্যে সর্বোচ্চ তিনবার নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছে আন্তর্জাতিক রেডক্রস। ১৯১৭, ১৯৪৪ ও ১৯৬৩ সালে রেডক্রসকে শান্তিতে নোবেল দেয়া হয়। এ ছাড়া ১৯৫৪ ও ১৯৮১ সালে শান্তিতে নোবেল পেয়ে এ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ বছরের নোবেল পুরস্কারের ঘোষণা। এর আগে বৃহস্পতি বার (০৮ অক্টোবর) সাহিত্যে, বুধবার (০৭ অক্টোবর) রসায়ন বিজ্ঞানে, মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) পদার্থবিজ্ঞানে এবং সোমবার (০৫ অক্টোবর) চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

জুলাইয়ের শেষের দিকে নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছিল, করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ডিসেম্বরে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার রাজকীয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে নোবেলজয়ীরা তাদের নিজ নিজ দেশে বসেই ওয়েবিনারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।