শাহ আবদুল করিমের ১০২তম জন্মদিন আজ

0
44

বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের ১০২তম জন্মদিন আজ বৃহস্পতিবার। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

‘আমি কুলহারা কলঙ্কিনী’, ‘গাড়ি চলে না চলে না’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’, ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘বসন্ত বাতাসে’সহ অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। ভাটির জল-হাওয়া-মাটির গন্ধ, কালনী-তীরবর্তী জনজীবন, মানুষের চিরায়ত সুখ-দুঃখ, দারিদ্র্য-বঞ্চনা, লোকাচার প্রভৃতি তার গানে উঠে এসেছে।

দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের পাশাপাশি ভাটিয়ালি গানেও দখল ছিল তার। তিনি ১৬০০-এর বেশি গান লিখেছেন ও সুর করেছেন। শাহ আবদুল করিমের লেখা ৬টি গানের বই রয়েছে। এগুলো হলো ‘আফতাব সঙ্গীত’, ‘গণসঙ্গীত’, ‘ধলমেলা’, ‘কালনীর ঢেউ’, ‘ভাটির চিঠি’ ও ‘কালনীর কূলে’।

একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি এই লোকশিল্পীর জন্মদিন এলেই ভাটি অঞ্চলের গ্রামীণ বাউলসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সংস্কৃতিকর্মীরা ভিড় জমান উজানধল গ্রামে। এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। এরই মধ্যে শাহ আবদুল করিমের ভক্তরা দলে দলে পৌঁছে গেছেন সেখানে।

তারা বলছেন, পৃথিবীব্যাপী যে বর্ণবিদ্বেষ, সন্ত্রাস, হিংসা, জঙ্গিবাদী তৎপরতা চলছে, এর বিরুদ্ধে প্রধান হাতিয়ার হতে পারে এ ধরনের মরমি বাউলদের গানের কথা। এ জন্য সরকারি উদ্যোগেই শাহ আবদুল করিমের গানের কথা প্রচার করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে শাহ আবদুল করিমের ছেলে বাউল শাহ নুর জালাল বলেন, ‘বাঙালির মূল চেতনাকে বাঁচাতে হলে শাহ আবদুল করিমের চেতনাকে হৃদয়ে লালন ও সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। পৃষ্ঠপোষকতাও দিতে হবে তার সৃষ্টিকর্মে।’

সুনামগঞ্জ জেলা উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বাউল শাহ আবদুল করিমকে কেবল একজন শিল্পী ভাবলেই হবে না। তিনি একটি আদর্শ, এক সংগ্রামী নাম। তার আদর্শেই অনুপ্রাণিত হতে হবে আমাদের সবাইকে।’

প্রসঙ্গত, বাংলা একাডেমির উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে। লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ, দুদ্দু শাহ, দূরবীন শাহর দর্শনে অনুপ্রাণিত ছিলেন এই বাউল সম্রাট। সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদক ছাড়াও তিনি পেয়েছেন সিটিসেল-চ্যানেল আই সম্মাননা

এছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন নাগরিক সংবর্ধনা, বাংলাদেশ জাতিসংঘ সমিতি, অভিমত, শিল্পকলা একাডেমি, খান বাহাদুর এহিয়া সম্মাননাসহ বহু পদক ও সম্মাননা। ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর সিলেটে ইন্তেকাল করেন তিনি।