শিক্ষক নেই, শিক্ষার্থী নেই, খাতায় আছে উপস্থিতি

0
166

কাইয়ুম হাসান : নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিতি নেই শিক্ষার্থীদের। আর তেমন কোনো উদ্যোগও নেই শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানোর। রয়েছে শিক্ষকদের উপস্থিতি নিয়েও নানা অবহেলা। এমন অবস্থা চলছে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের নাজিরদিঘী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

অভিযোগ রয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষকরা ক্লাস নেননা নিয়মিত, তাই কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও স্কুল বিমুখ হচ্ছে দিনদিন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে ভরদুপুরে বিদ্যালয়ে মাই টিভির ক্যামেরা। দেখা গেলো মাঠে খেলা করছে ইউনিফর্ম পরিহিত ৪ শিক্ষার্থী। আর সবগুলো শ্রেণিকক্ষ একেবারেই ফাঁকা।

এ অবস্থায় কী বলতে হবে, তা এক ছাত্রকে শিখিয়ে দিচ্ছেন প্রধান শিক্ষক।

বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকসহ ৬ জনের মধ্যে ৫ জনই নারী। আর একমাত্র পুরুষ শিক্ষকসহ ৩ জনই অনুপস্থিত। তাহলে স্কুলটি কেমন চলছে?

আর শিক্ষা কর্মকর্তারা বলছেন, নারী শিক্ষকদের একটি অংশ ক্লাসের চেয়ে সংসারকে বেশি গুরুত্ব দেয়ায় নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা কাঙ্খিত শিক্ষা। কোমলমাতি শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা দিতে, দায়িত্ব অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

প্রধান শ্রেনীকক্ষ শুন্য। কোন শিক্ষার্থী ছিল না ক্লাসে। অথচ এ দিনে হাজিরা দেখানো হয়েছে ৩য় শ্রেণীতে ১১জন,৪র্থ শ্রেণীতে ২০জন আর ৫ম শ্রেণীতে ২২ জন ছাত্রছাত্রী উপস্থিত। মাইটিভি প্রতিনিধির উপস্থিতি টের পেয়ে শুরু হয় দৌড়ঝাপ। ৩য় শ্রেণীতে ৩জন ৪র্থ শ্রেণীতে ৫জন আর ৫ম শ্রেণীতো ফাকাঁই। প্রধান শিক্ষক ব্যাস্ত ৫ শ্রেণীতে ছাত্র যোগারে।

শেষমেশ বেলা যখন ২-৩০ মিঃ, তখন একছাত্র ছুটে আসতেই প্রধান শিক্ষক তাকে শিখিয়ে দেন, কি বলতে হবে ক্যামেরার সামনে? তবে ছাত্রটি শিক্ষকের শেখানো কথা বলেনি, ক্যমেরার সামনে সত্য কথা বলতে শুরু করে।
উপজেলার ০২টি বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট ৭৬টি বিদ্যালয় রয়েছে। নতুন বই বিতরনী অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৪৮০৭জন। এলাকাবাসীর দাবী শীঘ্রই যেন জন প্রতিনিধি সহ যথাযত কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে দৃষ্ঠি দিয়ে অবহেলিত এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত করে গড়ে তুলেন।