শিরোনাম হতে নয়, জিততে মাঠে নামেন কোহলিরা

0
46

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ভারতীয় ক্রিকেট দলের টেস্ট সিরিজ হারের পরে তাঁর দিকে ধেয়ে এসেছিল সমালোচনা। আর এ বার একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে ঐতিহাসিক ৫-১ জয়ের পরে সেই ভারত অধিনায়ক বিরাট কোহালির প্রশংসার জয়গান।

রোববার থেকে জোহানেসবার্গে শুরু হচ্ছে দু’দেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তার আগে সাংবাদ সম্মেলনে এসে বিরাট কোহালি জানিয়ে দিলেন, প্রশংসা নিয়ে বিশেষ ভাবিত নন তাঁরা। কারণ, কারও সঙ্গেই পরীক্ষায় নামার ব্যাপার ছিল না তাঁর টিমের।

সাংবাদিক সম্মেলনে এ দিন আগাগোড়াই আক্রমণাত্মক ছিলেন ভারত অধিনায়ক। বলেন, ‘‘ক্রিকেট জীবনের এই সময়ে এসে মনে হয় না, কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা রয়েছে। কারণ, আমার ক্রিকেট-দর্শনটা খুব সোজা। সেটা হল, কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। আর ম্যাচে গিয়ে কীভাবে তা কাজে লাগাচ্ছি। এর বাইরে আর কিছুই নয়।’’

সদ্য সমাপ্ত একদিনের সিরিজে ৫৫৮ রান করে এই মুহূর্তে তিনি খবরের শিরোনামে। সে কথা মনে করিয়ে সাংবাদিকরা জানতে চেয়েছিলেন, এই কৃতিত্বের পরে তাঁকেই বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান বলা যায় কি না।

জবাবে ভারত অধিনায়কের সোজাসাপ্টা জবাব, ‘‘আমার এ রকম ‘সেরা ব্যাটসম্যান’ মার্কা ছাপ দরকার নেই। দরকার নেই সংবাদের শিরোনাম হওয়াও। আমার কাজ মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দিয়ে জয়টা নিয়ে আসা। এটা ক্রিকেট-কলমচিদের ব্যাপার। তাঁরা যা মনে করবেন তা লিখতে পারেন। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে এ রকম কোনও ‘ট্যাগ’ চাই না।’’

তবে এতেই থেমে থাকেননি ভারত অধিনায়ক। সাম্প্রতিক অতীতে দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট হারের পরে যে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল ভারত অধিনায়ককে, এ দিন পরোক্ষে তার জবাব দেন বিরাট।

বলেন, ‘‘আমি জানি, আমার কাজটা ঠিক কী। আর তা করতে গিয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট বা দলের সতীর্থরা আমার সম্পর্কে কী ভাবছে বা আমি ওদের সম্পর্কে কী ধারণা পোষণ করছি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ খবরের কাগজের শিরোনাম তো প্রতিদিনই পরিবর্তন হয়। আগামীকাল শূন্য রানে আউট হলেই ফের তা পরিবর্তন হতে পারে।’’

সঙ্গে জুড়ে দেন, ‘‘যদি আমি কোনও ভুল করি, তা হলে তা সামনে এসে স্বীকার করব। তবে অজুহাত খাঁড়া করব না। আর আমি সেই ব্যক্তিত্ব নই যে প্রকাশ্যে নিজের প্রশংসা করব বা শুনতে চাইব।’’

এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, একদিনের ক্রিকেটে বিদেশে এটাই ভারতের সেরা সিরিজ জয় কি না? জবাবে বিরাটের পাল্টা জবাব, ‘‘সেটা তো আপনারা বলবেন।

এক মাস আগে এই টিমটাই রাতারাতি খারাপ হয়ে গিয়েছিল। আর এখন এই সব প্রশ্ন জানতে চাওয়া হচ্ছে। আমরা এখনও নিজেদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারিনি। আর এটা সেরা জয় কি না সেটা কে
ব্যাখ্যা করবে!’’

এর পরেই ভারত অধিনায়ক বলে দেন, ‘‘একদিনের সিরিজ জিতেছি বলে, আমি স্বপ্নের জগতে থেকে প্রশংসা শোনার পক্ষপাতী নই। কারণ, এগুলো আমাকে বিন্দুমাত্র ভাবায় না। সত্যিই তাই। যখন ০-২ পিছিয়ে ছিলাম তখনও না।

আর যখন একদিনের সিরিজে ৫-১ জিতলাম তখনও না। কারণ, আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ড্রেসিংরুমে সম্মান পাওয়ার ব্যাপারটা। আর কিছু নয়।’’

রবিবার থেকেই শুরু হচ্ছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। তার আগে একদিনের ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের আনন্দে ভেসে না গিয়ে বিরাট বলছেন, ‘‘সবাই এক সঙ্গে বসে টিমের দুর্বলতাগুলো নিয়ে আলোচনা করতে হবে।

এটা বলা যাবে না, যে আমাদের দলে কোনও দুর্বলতা নেই। কোন কোন জায়গায় উন্নতি করতে হবে, তা আমরা চিহ্নিত করেছি। এ বার সেগুলো শুধরে ফেলার সময়।’’

দক্ষিণ আফ্রিকায় ভারতের টি-টোয়েন্টি ম্যাচের রেকর্ড বেশ ঝকঝকে। এবি ডিভিলিয়ার্স-দের দেশেই ভারতের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়। তার পরে ২০১৭ পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকায় দশটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে ভারত। যার সাতটিতেই জিতেছে তারা।

টি-টোয়েন্টিতে দলে এসেছেন সুরেশ রায়না, জয়দেব উনাদকাট এবং কে এল রাহুল। তিন জনেই শুক্রবার অনুশীলন করেছেন সেঞ্চুরিয়ন পার্কে। এ দিন জোহানেসবার্গে ঐচ্ছিক অনুশীলন ছিল ভারতের।

সেখানেও তিন জনকে এক সঙ্গে অনুশীলন করতে দেখা গিয়েছে। টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু হওয়ার চব্বিশ ঘণ্টা আগে ভারতীয় দলের মনোভাব একটাই। তা হল, এক দিনের সিরিজের জয়ের ধারাটা অব্যাহত রেখে প্রথম ম্যাচ থেকেই চালকের আসনে বসে পড়া।