শিশুদের সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

0
122

শিশু-কিশোরদের সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তাদের ন্যায় ও সত্যের পথে চলারও পরামর্শ দেন তিনি।

বুধবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী এবং জাতীয় শিশু দিবস-২০২১ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধি সৌধ কমপ্লেক্সে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সব সময় যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে, সেই সঙ্গে ন্যায় ও সত্যের পথে চলবে, তাহলেই জীবনে বড় হতে পারবে। জীবনটাকে উন্নত করতে পারবে। বাবা-মায়ের মুখও উজ্জ্বল হবে।

লেখাপড়া ও নৈতিক চর্চার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ছোট্ট সোনামনিরা, আমি তোমাদের কাছে এটাই চাই, তোমরা তোমাদের জীবনটাকে সুন্দর করো, লেখাপড়া শেখো। সেই সঙ্গে তোমাদের দরকার হচ্ছে নিয়মশৃঙ্খলা মানা, অভিভাবকদের কথা শোনা, শিক্ষকদের কথা শোনা, শিক্ষকদের কথা মেনে চলা, এটা কিন্তু খুব দরকার।

শিশুদের জীবনকে আরও সুন্দর ও রঙিন করে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিশুদিবসে এবারের প্রতিপাদ্য- ‘বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, শিশুর জীবন করো রঙিন।’ আমরা শিশুদের জীবন আরও রঙিন, আরও সুন্দর, আরও সার্থক করে গড়ে তুলতে চাই। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আমি এটাই চাই, আজকের শিশুরা সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, জীবনটাকে সুন্দর করবে।

নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতন বন্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৩-২০২৫ আমরা প্রণয়ন করেছি, যেন শিশুর ওপর কোনো রকম অত্যাচার-নির্যাতন না হয়। এজন্য আমরা আমাদের নারী ও শিশু নির্যাতন আইন সংশোধন করেছি। আরও কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করেছি।’ তিনি বলেন, ‘সবাইকে এই অনুরোধটা করব যে, শিশুদের প্রতি এই ধরনের প্রতিহিংসামূলক কাজ যাতে না হয়। 

শিশুরা যেন মাদক-সন্ত্রাসে জড়িয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সচেতনতা সৃষ্টি করে জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের প্রভাব থেকে শিশুদের মুক্ত রাখতে হবে। মাদকের হাত থেকে শিশুদের মুক্ত রাখতে হবে। এদিকে আপনারা যারা বয়স্ক, মুরুব্বি, অভিভাবক, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং জনগণের প্রতিনিধি সকলকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। 

শিশুখাদ্য এবং শিশুদের ব্যবহার করা সরঞ্জামাদি নিরাপদ ও নিশ্চিত করতে আইনের পাশাপাশি সরকারের আন্তরিকতার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিতে বিনা পয়সায় বই, বৃত্তি, উপবৃত্তি, প্রতিটি এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় তৈরি করাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছি।’ 

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা। পরে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তা উপভোগ করেন।