শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকার বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

0
243

অপরাধীদের বিচার নিশ্চিতসহ শিশু নির্যাতন বন্ধে সরকার বিশেষ দৃষ্টি দিয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেকোনো শিশুর অকাল মৃত্যু আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়।

সোমবার সকালে গণভবন থেকে ভাচুর্য়ালি বিশ্ব শিশু অধিকার দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০২০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শিশুর জন্য নিরাপদ বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে দেখি নানা ধরনের সংঘাত। যখন দেখি কোনো শিশুর অকাল মৃত্যু সেটা সত্যি আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। সেটা আমার দেশেই হোক বা বিদেশেই হোক, বঙ্গোপসাগরেই হোক, ভূমধ্যসাগরের পাড়েই হোক প্রতিটি ঘটনাই আমাদের নাড়া দেয়। কিন্তু আমরা চাই, শিশুদের জন্য এ পৃথিবীটা একটা নির্ভরযোগ্য, শান্তিপূর্ণ বাসযোগ্য স্থান হোক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কথায় বলি শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত। হ্যাঁ, অবশ্যই। কিন্তু সেই ভবিষ্যত বংশধরদেরকে তৈরি করতে হবে মানুষের মত মানুষ হিসেবে। তাদের মেধা, তাদের জ্ঞান, তাদের বুদ্ধি সবকিছু বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিতে হবে।

আর সেজন্য যথাসম্ভব উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা, লেখাপড়া শেখার পরিবেশ, সুস্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করা এবং জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার মাধ্যমে উন্নত ভবিষ্যত নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন সরকারপ্রধান।

শিশুদের জ্ঞান অর্জনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত জ্ঞান-বিজ্ঞানে সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে, বাঙালি জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে বিশ্বে চলবে। সেটাই আমরা চাই। কাজেই আজকের শিশুরা নিজেকে সেভাবেই গড়ে তুলবে। কিছু সমস্যা আসবে, কিন্তু সে সমস্যাগুলো অতিক্রম করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমাজের কোনো স্তরের কেউ যেন বাদ না পড়ে সে জন‌্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বৃত্তি আমরা দিচ্ছি। করোনার মধ‌্যেও বৃত্তি উপবৃত্তি পৌঁছে দিচ্ছি। মাল্টিমিডিয়া ক্লাস করে দিচ্ছি।’  

তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকিজনিত কারণে স্কুল খোলা যাচ্ছে না। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না, যা খুবই কষ্টের। ঘরের মধ্যে বসে থেকে শিশুদের করার কিছু থাকে না। যৌথ পরিবারের শিশুরা পরিবারের একাধিক সদস্য ও সমবয়সীদের সঙ্গে কথাবার্তা ও খেলাধুলা করে সময় কাটালেও একক পরিবারের শিশুরা খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তির জন্য ঘরবন্দি এসব শিশুদের প্রতিদিন বাইরে নিয়ে যেতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের খোলা বাতাসে খেলাধুলা ও বিনোদনের সুযোগ দিতে হবে। সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলার জন‌্য আমরা প্রত‌্যেকটি উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম করে দিচ্ছি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও কাজ করছি। নানা ধরনের অত‌্যাচার নির্যাতন হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব‌্যবস্থা নিচ্ছি।

শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগের কথাও বলেন তার মেয়ে শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, জাতির পিতার আদর্শ বাস্তবায়নে সরকার শিশুদের অধিকার নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে। শিশুদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুষ্টিহীনতা দূর করতে এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়া বন্ধ করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।