শুরু হল উদীচীর সাংস্কৃতিক সম্মেলন

0
105

‘দ্রোহে-বিদ্রোহে-বিপ্লবে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ ধরে রাখার প্রত্যয়ে ঢাকায় শুরু হয়েছে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর জাতীয় সাংস্কৃতিক সম্মেলন। সুবর্ণজয়ন্তীতে পদার্পন উপলক্ষে উদীচী আয়োজিত তিন দিনের সাংস্কৃতিক সম্মেলনের উদ্বোধন করেন প্রবীণ কৃষক নেতা, লোকশিল্পী আবুল হাশিম।

উদ্বোধনী পর্বের শুরুতেই জাতীয় সঙ্গীত ও সংগঠন সঙ্গীত পরিবেশন করেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের শিল্পীরা। এরপর একটি শোভাযাত্রা শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে টিএসসি দিয়ে শাহবাগ হয়ে আবার শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।

শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় উদ্বোধনী সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। ‘জীবন খুঁজে পাবি’ শিরোনামের এ পরিবেশনায় কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের দৈনন্দিন জীবন-সংগ্রামের চিত্র তুলে ধরেন শিল্পীরা। সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদও জানায় উদীচীর শিল্পীরা।

এরপর শুরু হয় আলোচনা পর্ব। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সহ-সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমানের সভাপতিত্বে এ পর্বের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন।

আলোচনা পর্বে অংশ নেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সভাপতি সৈয়দ হাসান ইমাম, বর্তমান সহ-সভাপতি মাহমুদ সেলিম এবং উদীচী’র উপদেষ্টামণ্ডলীর অন্যতম সদস্য ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলাম।
আলোচনার পর শুরু হয় উদ্বোধনী দিনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এ পর্বের শুরুতেই সিলেট অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ধামাইল গান পরিবেশন করেন উদীচীর দক্ষিণ সুনামগঞ্জ সংসদের শিল্পীরা। এরপর সুনামগঞ্জের দিরাই শাখার শিল্পীরা পরিবেশন করেন লোকগান। এরপর গণসঙ্গীত নিয়ে মঞ্চে আসেন উদীচী চাঁদপুর জেলা সংসদের শিল্পীরা।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করেন উদীচী মৌলভীবাজার জেলা সংসদের শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনার পর ছিল নড়াইলের নড়াগাতি শাখার শিল্পীদের পরিবেশনা। দিনাজপুরের শিল্পীরা আদিবাসী বিয়ের গান গেয়ে মঞ্চ মাতান।

প্রথম দিনের সবশেষ পরিবেশনা ছিল উদীচী সিলেট জেলা সংসদের নাটক ‘ভানুবিলের লড়াই’।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত উদীচীর তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনে সারাদেশ থেকে উদীচীর শিল্পী-কর্মীরা নিজ নিজ অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ভাণ্ডার নিয়ে অংশ নিচ্ছেন।

প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে পরিবেশিত হচ্ছে আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী নানা পরিবেশনা।

তিন দিনের এই সম্মেলনে পরিবেশিত বাংলার লোক-ঐতিহ্যের গৌরবোজ্জ্বল স্মারক পরিবেশনার মধ্যে রয়েছে গম্ভীরা, গাজীর গান, অষ্টক, ধামাইল, জারি গান, পালা গান, গণসঙ্গীত, লোক গীতি, আদিবাসী নৃত্য, নৃত্যালেখ্য, গীতি আলেখ্য, নাটক, মুকাভিনয়, আবৃত্তি প্রভৃতি।

নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা সংস্কৃতির ঐতিহ্য ও ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এই সাংস্কৃতিক সম্মেলন।

বিভিন্ন জেলা ও শাখার পরিবেশনা ছাড়াও রয়েছে দেশীয় বাদ্যযন্ত্রের প্রদর্শনীর আয়োজন। যেখানে প্রায় ৪০টি দেশীয় বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। রয়েছে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও বইয়ের দোকান।