শুরু হয়েছে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব

0
154

টঙ্গীর তুরাগ তীরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে ৫৩তম বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। অর্ধশতাধিক দেশের কয়েক হাজার বিদেশি মেহমানছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত ১৬টি জেলার মুসুল্লিরা এই পর্বে অংশ নিচ্ছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে সমন্বিত প্রস্তুতি। ফজরের নামাজের পর আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ইজতেমার দ্বিতীয়পর্ব। আমবয়ান করছেন বাংলাদেশের মাওলানা মোঃ মনোয়ার ফারুক। ইজতেমার মূল বয়ান মঞ্চ থেকে জ্যেষ্ঠমুরুব্বীরা আগত মুসুল্লীদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ভাষায় বয়ান দিচ্ছেন। এ পর্বে দেশের ১৬টি জেলা থেকে আগত মুসুল্লিরা ২৮টি খিত্তায় অবস্থান করে ভোর থেকেই বয়ান শুনছেন।

তাবলিগ জামাতের একপক্ষের বিরোধিতার মুখে দিল্লির মাওলানা মোহাম্মদ সাদ কান্ধলভির অংশগ্রহণ ছাড়াই গত ১২ জানুয়ারি প্রথম দফা ইজতেমা শুরু হয়ে ১৪ জানুয়ারি (রোববার) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে বয়ান ও মোনাজাতকারীর তালিকায় পরিবর্তন আনা হয়েছে জানিয়ে ইজতেমার মারকাজের শুরা সদস্য মুরব্বি মো. মাহফুজ বলেন, বৃহস্পতিবার বাদ মাগরিব ভারতের মাওলানা আব্দুল রেহমান রাভিয়ানা ও শুক্রবার বাদ ফজর বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুকের বাংলায় বয়ানের মধ্য দিয়ে এবার ইজতেমা শুরু হয়েছে।

প্রথম পর্বের মতো বাংলাদেশের মাওলানা জোবায়ের আরবি ও বাংলায় আখেরি মোনাজাত করবেন বলে জানান তিনি।

দ্বিতীয় পর্বে বয়ানকারীরা হলেন – ভারতের মাওলানা আব্দুল রেহমান রাভিয়ানা, মাওলানা আহমদ হোসাইন গোদরা, মাওলানা ইউনুছ পলানপুরী, মাওলানা আকবর শরীফ, ভাই সানোয়ার, মাওলানা ফারহিন ও মাওলানা শামীম।

দ্বিতীয় দফায় ইজতেমায় অংশ নিতে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই প্রয়োজনীয় মালামালসহ বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে জেলাওয়ারি খিত্তায় অবস্থান নেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ।

মুরব্বি গিয়াস উদ্দিন জানান, এবারও বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের পশ্চিম-উত্তর দিকে বিদেশি মুসল্লিদের অবস্থানের জন্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বিদেশি নিবাসে রন্ধনশালায় সার্বক্ষণিক গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং সেখানে অ্যাম্বুলেন্স ও টেলিফোনসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক সুবিধাদি রয়েছে।

বিদেশি নিবাসে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থাও রয়েছে। এবার বিদেশি মুসল্লিদের জন্য ২০ শতাংশ আবাসনসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

দ্বিতীয় দফা: ১৪ জেলার খিত্তা

১ থেকে ১০ নম্বর এবং ১৮ ও ১৯ নম্বর খিত্তায় ঢাকা, ১১ ও ১২ নম্বর খিত্তায় জামালপুর, ১৩ নম্বর খিত্তায় ফরিদপুর, ১৪ নম্বর খিত্তায় কুড়িগ্রাম, ১৫ নম্বর খিত্তায় ঝিনাইদহ, ১৬ নম্বর খিত্তায় ফেনী, ১৭ নম্বর খিত্তায় সুনামগঞ্জ, ২০ নম্বর খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা, ২১ ও ২২ নম্বর খিত্তায় কুমিল্লা, ২৩ ও ২৪ নম্বর খিত্তায় রাজশাহী, ২৫ ও ২৭ নম্বর খিত্তায় খুলনা, ২৬ নম্বর খিত্তায় ঠাকুরগাঁও এবং ২৮ নম্বর খিত্তায় পিরোজপুর জেলার মানুষ ।

গাজীপুরে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিতীয় দফার জন্যও আগের দফার মতো ব্যাপক ও সর্বাঙ্গীন প্রস্তুতি রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ইজতেমা সেরে সবাই যাতে ঠিকমতো ফিরে যেতে পারে তার জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার মো. হারুন-অর-রশীদ বলেন, বিশ্ব ইজতেমায় দায়িত্ব পালনের জন্য সাত হাজার পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রয়েছে, নেওয়া হয়েছে সাত স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

তাবলীগ জামাতের দ্বন্দ্বের কোনো প্রভাব ইজতেমায় পড়বে না জানিয়ে তিনি বলেন, অর্ধশতাধিক অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা মনিটরিং করা হচ্ছে।

দ্বিতীয় পর্বে আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ২১ জানুয়ারি রোববার। এ আখেরি মোনাজাতের মধ্য শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমা।