সংসদে টিকার অগ্রাধিকার প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করলেন প্রধানমন্ত্রী

0
218

করোনাভাইরাসের টিকার অগ্রাধিকার প্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটুর লিখিত প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ তালিকা প্রকাশ করেন। এসময় ভ্যাকসিন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাসমূহও তুলে ধরেন তিনি।

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী যে তালিকা প্রকাশ করেছেন তারমধ্যে রয়েছে- কভিড-১৯ স্বাস্থ্য সেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত ৪ লাখ ৫২ হাজার ২৭ জন সরকারি স্বাস্থ্যকর্মী। এছাড়া কভিড-১৯ স্বাস্থ্য সেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত সব অনুমোদিত ও বেসরকারির ৬ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী। রয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধা।

টিকা পাবেন ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬২০ জন সম্মুখসারির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্য। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে সামরিক ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৩ লাখ ৬০ হাজার ৯১৩ জন সদস্য।

রাষ্ট্র পরিচালনায় অপরিহার্য কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী ৫০ হাজার জন। তালিকায় রয়েছে সম্মুখসারির ৫০ হাজার গণমাধ্যম কর্মী।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ১ লাখ ৭৮ হাজার ২৯৮ জন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সম্মুখসারির কর্মচারী ১ লাখ ৫০ হাজার জন, ধর্মীয় প্রতিনিধি ৫ লাখ ৪১ হাজার জন, মরদেহ সৎকারে নিয়োজিত ৭৫ হাজার ব্যক্তি, ৪ লাখ জরুরি পানি, গ্যাস, পয়:নিষ্কাশন, বিদ্যুৎ, ফায়ার সার্ভিস, পরিবহন কর্মচারী; স্থল, নৌ ও বন্দর কর্মী ১ লাখ ৫০ হাজার জন, প্রবাসী অদক্ষ শ্রমিক ১ লাখ ২০ হাজার জন,  জেলা ও উপজেলাসমূহে জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারী ৪ লাখ জন, ব্যাংক কর্মকর্তা ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬২১জন, স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠী (যক্ষ্মা, এইডস রোগী, ক্যানসার) ৬ লাখ ২৫ হাজার জন, ৬৪ থেকে ৭৯ বছর বয়সী বয়স্ক জনগোষ্ঠী ১ কোটি ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৫৮ জন, ৮০ বছর বা তদুর্ধ্ব বয়স্ক জনগোষ্ঠী ১৩ লাখ ১২ হাজার ৯৭৩ জন, ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি জাতীয় দলের খেলোয়াড় ২১ হাজার ৮৬৩ জন এবং বাফার, ইমারজেন্সি আউটব্রেক ১ লাখ ৭০ হাজার জন তালিকায় রয়েছেন।

ভ্যাকসিনবিষয়ক সম্ভাব্য পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কোভ্যাক্স ফ্যাসিলিটি থেকে বিশ্বের ৯২টি দেশের মতো দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ জনগোষ্ঠীর তথা ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের জন্য ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সায়েন্টিফিক অ্যাডভাইজারি গ্রুপ এক্সপার্টের নির্দেশনা ও দেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রদানের অগ্রাধিকার তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ভ্যাকসিন বিতরণের প্রথম পর্যায়ে দেশের জনসংখ্যার মোট ১ কোটি ৫০ লাখ (৮.৬৮ %) লোককে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ২ ডোজ করে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। দেশের ৬৪টি জেলা ইপিআই স্টোর এবং ৪৮৩টি উপজেলা ইপিআই স্টোরে এ ভ্যাকসিন সংরক্ষণ করা হবে, চুক্তি অনুযায়ী ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রাপ্ত ৩ কোটি বা ততোধিক ডোজ ভ্যাকসিন ছয়টি ধাপে সরাসরি বাংলাদেশের নির্ধারিত জেলার ইপিআই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ভারতের উপহার হিসেবে ২০ লাখ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট থেকে ক্রয়কৃত ৫০ লাখ করোনার টিকা গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকা পৌঁছেছে। ৭০ লাখ টিকা সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সিরামের সাথে চুক্তি অনুযায়ী আগামী ছয় মাসে সব টিকার সরবরাহ পাওয়া যাবে। এর বাইরে প্রয়োজন মোতাবেক আরও টিকা ক্রয়ে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে।