সাবেক বিচারপতি এসকে সিনহাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

0
325

ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমান পদ্মা ব্যাাংক) চার কোটি টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাতের অভি‌যো‌গে দুদ‌কের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ (এসকে সিনহা) ১১ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। 

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলমের আদালতে মামলার বাদী দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল এই সাক্ষ্য দেন। এসময় আদালত পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য ২৫ আগস্ট তারিখ ধার্য করেন। 

এ মামলায় ফারমার্স ব্যাংক লিমিটেডের অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক চিশতী (বাবুল চিশতী), সাবেক এমডি এ কে এম শামীম, সাবেক এসইভিপি গাজী সালাহউদ্দিন আদালত হাজির হন। এছাড়া এ মামলার পালাতক চার আসামি ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট স্বপন কুমার রায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. লুৎফুল হক, টাঙ্গাইলের বাসিন্দা মো. শাহজাহান, নিরঞ্জন চন্দ্র সাহা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন প্রার্থনা করেন। পরে আদালত শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। 

এদিকে, এ মামলা প্রধান আসামি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ চারজন পালাতক আছেন। অন্য তিনজন হলেন- ফারমার্স ব্যাংকের ফার্স্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট সাফিউদ্দিন আসকারী, রণজিৎ চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী সান্ত্রী রায়।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট এ মামলার অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ ধার্য করেন আদালত।  

গত ২০ ফেব্রুয়া‌রি মামলাটি বিচারের জন্য এই আদাল‌তে বদলির আদেশ দেন ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কেএম ইমরুল কায়েশ।

গত ৯ ডিসেম্বর ১১ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে নিজেরা লাভবান হয়ে এবং অন্যদের লাভবান করে অবৈধভাবে ভুয়া ঋণ সৃষ্টির মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে নগদে উত্তোলন ও বিভিন্ন পে-অর্ডারের মাধ্যমে স্থানান্তর করে অর্জিত অপরাধলব্ধ আয় উত্তোলন, স্থানান্তর ও নিজেদের ভোগদখলে রেখে অবৈধ প্রকৃত উৎস অবস্থান গোপন করে পাচার করেছেন বা পাচারের ষড়যন্ত্রে সংঘবদ্ধভাবে সম্পৃক্ত থেকে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২)(৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

সেই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে গত ৫ জানুয়ারি এসকে সিনহাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতা‌রি প‌রোয়ানা জা‌রি করেন।  

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভুয়া ঋণের মাধ্যমে চার কোটি টাকা স্থানান্তর ও আত্মসাৎ করার অভিযোগ মামলাটি করে দুদক। গত ৪ ডিসেম্বর এই মামলায় অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় সংস্থাটি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর বিচারপতি সিনহা বিদেশ থাকাকালীন প্রধান বিচারপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।