সারাদেশে এক মিনিটের ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচি পালন

0
61

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালরাত স্মরণে রাত ৯টা থেকে ৯টা ১মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা ব্যতীত সকল জায়গায় ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এক মিনিটের জন্য অন্ধকার হয়ে যায় পুরো দেশ। সারাদেশ এক মিনিটের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। চলন্ত গাড়ি ওই সময় থেমে যায়। হেঁটে চলা মানুষ থেমে যায়।

রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস ও স্বাধীনতা দিবসের কর্মসূচি নির্ধারণে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচী পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী কর্তৃক বর্বরোচিত হামলার সেই বিয়োগান্তক ঘটনার স্মরণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কর্মসূচি পালন করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। তবে সব ধরনের জরুরি সেবা যেমন হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস ইত্যাদি এ কর্মসূচির আওতার বাইরে ছিলো।

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণহত্যা দিবস’ নানা কর্মসূচি মধ্য দিয়ে স্মৃতি চিরন্তন চত্বরে নানা আয়োজন করে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ২৫ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় স্মৃতি চিরন্তন-এ মোমবাতি প্রজ্বলন করার পরে ৯ টা ১ মিনিটে ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করে।

দেশের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক দল ‘ব্ল্যাক-আউট’ কর্মসূচীতে অংশ নেয়। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে।

এদিকে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম। মোমবাতি প্রজ্বলন অনুষ্ঠানে কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম শপথ বাক্য পাঠ করান।

সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম গণহত্যা দিবস উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন প্রাঙ্গণে মোমবাতি প্রজ্বলন করে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

২৫ মার্চে কালরাতের সাক্ষী আবুল কালাম আজদ বলেন, সন্ধ্যা থেকেই সেদিন ঢাকার শহর থমথমে ছিলো । মূলত ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণের দেয়া পর থেকেই ঢাকা উত্তেজিত ছিলো। কিন্তু ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানের সৈন্যরা ঢাকার শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিরস্ত্র বাঙ্গালীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

রাজারবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,সদরঘাট এলাকায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড চালায়। বাঙ্গালির পাক বাহিনীর মোকাবেলা করার তেমন কিছুই ছিলো না শুধু ছিল থ্রি-নট। বাঙ্গালীরা শুধু জয় বাংলা স্লোগান সামনে নিয়েই বঙ্গবন্ধুর ডাকে যুদ্ধে নেমে পড়েন। পরদিন সকালে জয়দেবপুর যাওয়ার সময় লাখ লাখ লাশ পড়ে থাকতে দেখেন এই মুক্তিযোদ্ধা।

আরেকজন নারী মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছি, দেশের জন্য আমরা সম্ভ্রম হারিয়েছি। রক্ত দিয়ে যে স্বাধীনতা পেয়েছি সেই স্বাধীনতা রক্ষায় প্রয়োজনে আমরা আবার জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত আছি।’

বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় নেমে আসে। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী কাপুরুষের মত তাদের পূর্বপরিকল্পিত অপারেশন সার্চলাইটের নীলনকশা অনুযায়ী আন্দোলনরত বাঙালিদের কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘৃণ্য লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দিনটি উপলক্ষে সেক্টর কমান্ডার্স গণহত্যা দিবস পালনে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।