সারাদেশে বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টিতে ৬ জন নিহত, আহত শতাধিক

0
104

দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি-বজ পাতে অন্তত ছয়জন নিহত ও শতাধিক আহত হয়েছেন। বজ পাতে রংপুরে দুইজন ও কিশোরগঞ্জের ভৈরব মারা গেছেন একজন। ঈশ্বরদীতে শীলার আঘাতে মারা গেছেন একজন।

এছাড়া সিলেটে ঝড়ের সময় মারা গেছেন আরো দুইজন। শিলাবৃষ্টির কবলে পড়ে উত্তরাঞ্চলের ১০ জেলা – পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, নাটোর ও পাবনায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শেরপুর, সুনামগঞ্জেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা এই শিলাবৃষ্টিকে ভয়াবহ আখ্যায়িত করে জানিয়েছেন, বড় আকারের শীলার আঘাতে মাথা কেটে গেছে, থেতলে গেছে। টিনের চাল ফুটো হয়ে গেছে।

শুক্রবার দুপুরে রংপুরে প্রচন্ড ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বজ পাতে মারা গেছেন দুইজন। নিহত দুইজন হলেন, বদরগঞ্জে শামীম ও তারাগঞ্জের নয়া মিয়া। এছাড়া ঝড় ও শিলাবৃষ্টির সময় অন্তত ৫০জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮জনকে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ঈশ্বরদীতে শুক্রবার বিকেলে শিলাবৃষ্টির সময় শিলার আঘাতে এক বৃদ্ধার প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটে ঈশ্বরদী শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে। নিহত বৃদ্ধা ওই গ্রামের মৃত দেলবার সরদারের স্ত্রী। তার নাম নাম জোমেনা খাতুন। পুত্র আলম সরদদার জানান, বাড়ির পিছনে ফাঁকা জায়গায় গাছের পাতা ঝাড় দিতে গেলে বিকেল চারটার দিকে হঠাত্ করেই ঝড় ওঠে এবং অঝোর ধারায় শিলা বর্ষিত হয়। শিলার আঘাতে জোমেনা খাতুনের ঘটনাস্থলেই মারা যান।

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে গতকাল শুক্রবার বিকেলে শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুরে বজ পাতে আলমগীর হোসেন নামে একজন মারা গেছেন। জানা গেছে, দুপুরে দিনমজুর আলমগীর বাড়ির পাশে ফসলি জমিতে পাট বীজ বুনতে যায়। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বজ্রপাতের কবলে পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শহরের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঝড়ে সিলেটের পল্লীতে এক মহিলা ও শিশু নিহত হয়েছে। সিলেটের ওসমানীনগরে শুক্রবার বিকেলে প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতশত গাছ উপড়ে যায়। ঝড়ের সময় উপজেলার তাজপুর ইউপির দশহাল গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসে সাবিয়া বেগম (৪৫) নামের এক মহিলা উড়তে থাকা টিনের আঘতে মারা গেছেন। নিহত সাবিয়া বেগম বালাগঞ্জ উপজেলার বোয়ালজুরের সোনাপুর গ্রামের খালিছ মিয়ার স্ত্রী বলে ওসমানীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদ উল্যা জানান। এছাড়া ঝড়ের সময় পানিতে ডুবে হাসান আহমদ নামের ১৬ মাসের এক শিশুর মৃত্যু হয়।

পঞ্চগড়ে শিলাবৃষ্টিতে ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে হাই্রব্রিড টমেটো, তরমুজ, গম, ভূট্টার ক্ষেতের ক্ষতি ব্যাপক। ঝরে গেছে বিভিন্ন এলাকার আম ও লিচু গাছের মুকুল। শুক্রবার ভোর থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় প্রচুর পরিমাণে শিলা পড়ে।

ঠাকুরগাঁওয়ে হঠাত্ শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে এই শিলাবৃষ্টি হয়। প্রায় আধা ঘন্টা ধরে শিলা পড়তে থাকে।

দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে শুক্রবার চার ঘন্টার প্রচন্ড ঝড়সহ শিলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি, ফসল, ইটভাটাসহ গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে দুই শিশু, ছয় নারীসহ নয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু সানিয়া (৩) ও মজিয়া খাতুনকে (৪৫) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সাধীন রাহিলা বেগম বলেন, মাঠ থেকে ছাগল নিয়ে বাড়ি আসার সময় ঝড়সহ শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বড় বড় শিলার আঘাতে তার মাথার বিভিন্ন অংশ কেটে যায়, থেতলে যায়। রুপালী বেগম বলেন, স্বামী ও সন্তানসহ নিজ বাড়ি আনন্দ বাজার থেকে ফুলবাড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসার সময় ঝড়সহ শিলাবৃষ্টির কবলে পড়েন। শিলার আঘাতে হেলমেট থাকায় স্বামী রক্ষা পেলেও শিশু সন্তানসহ তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে একদিনে তিন দফা শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নষ্ট হয়ে গেছে ঘর-বাড়ির টিনের চালা। কৃষিতে ঘটেছে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ। শুক্রবার সকাল ৬টা, ৮টা ও সোয়া ১১ টায় তিন দফা স্মরণকালের ভয়াবহ শিলা বৃষ্টি হয় উপজেলা সদর, রায়গঞ্জ, রামখানা, সন্তোষপুর, নেওয়াশী, হাসনাবাদ, বামনডাঙ্গা, বেরুবাড়ী, কালীগঞ্জসহ সব ইউনিয়নে। প্রতিবার রাস্তা-ঘাটসহ বাড়ির উঠোনে জমে যায় শিলার স্তর। এক একটি শিলার আকার ছিল সুপারীর মত। শিলার আঘাতে অসংখ্য ছিদ্র হয়ে যায় বসত বাড়ী ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঘরের টিনের চালা।

মৌসুমের প্রথম শিলাবৃষ্টিতে নীলফামারী জেলায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জেলার ডোমার, ডিমলা, সৈয়দপুর ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে যায়, সঙ্গে ছিল প্রচন্ড শিলাবৃষ্টি । কোথাও কোথাও শিলার আঘাতে টিনের চালা ফুটো হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ক্ষেত থেকে বাড়ি ফেরার সময় শিলার আঘাতে ডিমলায় মিনা বেগম, রমজান আলী ও চিত্ররঞ্জন নামের ৩জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বজ্রপাতে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার যোগেন্দ্র নগর গ্রামের ৬জনসহ বিভিন্ন এলাকার ৯জন আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে ওই ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার বিকাল তিনটার দিকে হঠাত্ ঝড়ো হওয়াসহ শিলা বৃষ্টি শুরু হয়। এসময় বজ পাত হয়।

বড়াইগ্রামে শীলাবৃষ্টিতে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এসময় আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।
চাটমোহরে শিলা বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আহত হয়েছেন অন্তত ২০জন।

গাইবান্ধার সাঘাটায় ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে বোরো আবাদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গতকাল জুমার নামাজ শেষে শুরু হয়ে প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে শিলাবৃষ্টির তান্ডব। এতে আমের মুকুলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে শিলাবৃষ্টিতে ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া ঝিনাইগাতী (শেরপুর), দাউদকান্দি (কুমিল্লা), সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ), গাইবান্ধা, লালমনিরহাটেও ঝড় শীলাবৃষ্টি হয়েছে।