সারাদেশে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, গাইবান্ধায় নতুন করে ৫টি এলাকা প্লাবিত

0
236

রাজিয়া সুলতানা স্মৃতি : বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহর রুপ নিয়েছে। বিভিন্ন জেলায় প্রতিরক্ষা বাধঁ ভেঙ্গে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল।

জামালপুরের বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জামালপুরের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহর রুপ নিয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অন্তত ৪ লাখ মানুষ। রেল লাইনে পানি উঠায় বন্ধ হয়ে গেছে ইসলামপুর -দেওয়ানগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল। তলিয়ে গেছে অন্তত ১৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল। দুগর্ত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ,খাবার ও গো খাদ্যের সংকট তীব্র হয়ে উঠেছে।

কুড়িগ্রামে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্যা কবলিত মানুষজনের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। জেলার ৯টি উপজেলার ৬০টি ইউনিয়নের ৪০৭টি গ্রামের প্রায় ৪ লাখ মানুষের মধ্যে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারন করছে। ৪ শতাধিক চরে দেখা দিয়েছে গো খাদ্য সংকট।
ইতিমধ্যে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী সড়কে বিভিন্ন স্থানে পানি উঠায় সোনাহাট স্থল বন্দরের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে।

বন্যার পানি উঠায় জেলায় ৪শ ১৭টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। বাতিল করা হয়েছে সরকারী সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি।

গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে। বন্যার পানিতে ভাসছে জেলার সাঘাটা, ফুলছড়ি, সুন্দরগঞ্জ, সদর ও গাইবান্ধা পৌরএলাকার ৩২ টি ইউনিয়নের অন্ততপক্ষে ৪ লাখ মানুষ।

জেলার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও শহর রক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থানে ভে্েঙ্গ যাওয়ায় প্রতিয়িত নতুন নতুন এলাকায় বন্যা কবলিত হয়ে পড়ছে। আতংকিত হয়ে পড়েছে জেলার পশ্চিম অঞ্চলের মানুষজন।

গাইবান্ধা শহরের সাথে সাঘাটা-ফুলছড়ি-বোনারপাড়া- সুন্দরগঞ্জ- বালাসী নৌ-বন্দর সড়কের উপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে কাজিপুরের উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নির্মিত রিং বাধের ৬০ মিটার এলাকা ভেঙ্গে মেঘাই, নতুন মেঘাই, পাইকড়তলী, কুনকুনিয়া ও পলাশপুড়ে পানি ঢুকে পড়ে। এ সময় অন্তত ৫শতাধিক পরিবার পানি বন্দী হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সহযোগীতায় পানিবন্দীদের নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়। অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে পানি সম্পদ সচিব কবির বিন আনোয়া প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যকর্মীদের জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বন্যার কারনে বাধের যে কোন দূর্যোগ ঢেকাতে প্রস্তুত রয়েছে। পাশাপাশি সরকারও বন্যা দূর্গতদের সাহায্যের জন্য পুরো প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান।

মৌলভীবাজারের কুশিয়ারা মনু ও ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচেছ। ইতিমধ্যে নদী ৩ টির প্রতিরক্ষা বাঁেধর ৭টি স্থানে ভাঙ্গনের ফলে জেলার সদর, কমলগঞ্জ, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের শতাধিক গ্রামের ৫ হাজার পরিবারের লক্ষাধিক মানুয বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন।
বন্যার্তরা খাদ্য,টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

বন্যার্তরা পয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মানের দাবী জানান। বন্যার্তদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।খোলা হয়েছে পর্যাপ্ত আশ্রয় কেন্দ্র ।