সারা জীবনের সঞ্চয়পত্র নিয়ে ভোগান্তিতে প্রবীণ নাগরিকরা (ভিডিও)

0
891

মাহবুব সৈকত : কর্মজীবন শেষে একসময় অবসরে যেতে হয় সবাইকে, তখন পেনশনের অর্থই অনেক প্রবীনের জীবনের একমাত্র সম্বল। কিছুটা বেশি লাভ দেয়ায় এই অর্থ দিয়ে জাতীয় সঞ্চয় পত্র কিনে তার লভাংশ দিয়ে চলে পরিবার। কিন্তু বাজেটে এই লভাংশের উপর পূর্ব নির্ধারিত ভ্যাট ৫ ভাগ থেকে বাড়িয়ে ১০ ভাগ করার প্রস্তাবে বিচলিত গ্রাহকরা।

সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে সংশ্লিস্ট অফিসে প্রায় ৭৫ বছর বয়সী ওহাব আলী মিয়া । বয়সের ভারে চলে না দু’পা, তবুও শিড়ি মাড়িরে অফিস কক্ষে যেতেই চোখ ছানাবড়া। শত মানুষের ভীড়ে দপ্তরের কর্মরতদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ভীড় কমলে আবার চেষ্টা করা যাবে এই ভেবে পিছুটান দেন।

রাজধানীর কাঁটাবনের সঞ্চয় পত্র বিশেষ ব্যুরোসহ রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা এই দপ্তরগুলোতে প্রতিদিনই থাকে গ্রাহকদের এমন ভীড়।

জীবনের স্বর্নালী সময়ে এ সব অগ্রজ দায়িত্ব পালন করেছেন সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। অবসরের পরে একটু ভালো থাকার আশায় জমানো সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে এসে, তাদেরই দাড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা।

সঞ্চয়পত্রের লভ্যাশেংর উপর বাজেটে কর বাড়ানোর প্রস্তাবে চলতি মাসেই লভাংশ তোলার হিড়িক পড়েছে। এই ঘোষনায় ক্ষুদ্ধ বিধবা এবং পেনশন স্কিমের গ্রাহকরা। স্বল্প পরিসরের অফিসগুলোতে প্রবীন নারী পুরুষের পদভারে তৈরী হয় অবর্ননীয় মানবেতর অবস্থা।

জনবল কম থাকায় অফিসগুলোতে গ্রাহকদের কেউ কেউ স্বেচ্ছায় করছিলেন নিজের এবং অন্যদের দাপ্তরিক কাজগুলো। প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি এবং লোকবলের সপ্পতার কারনে গ্রাহকদের সেবা দিতে ত্রাহি অবস্থা স্থানীয় দপ্তরগুলোর কর্মরতদেরও।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সঞ্চয়পত্র সংশ্লিস্ট প্রায় প্রতিটি দপ্তরেই ছিলো বিচলিত গ্রাহকের ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া। অপ্রসস্ত অফিসে যায়গা না হওয়ায় কাজ শেষ করতে সিড়িঘর এবং রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতে হয়েছে ঘন্টারপর ঘন্টা।

এ বিষয়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন,  লভ্যাংশ থেকে ১০ ভাগ অর্থ কর বাবদ কেটে নেয়ার আনুষ্ঠানিক কোন ঘোষনা আসেনি। সামাজিক নিরাপত্ত্বার বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সঞ্চপত্রের মুনাফার উপর নির্ভরশীলদের দুশ্চিন্তা বৃদ্ধিপায় এমন কোন পদক্ষেপ না নেয়ার পক্ষে জোর পরামর্শ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক এই ডেপুটি গভর্ণর।

তবে কেউ যাতে সুযোগ গ্রহন না করে সে বিষয় ও নজরদাবী বাড়ানোর তাগিদ এই অর্থনীতিবিদের। তবে অর্থনীতির এত জটিল সমিকরন বোঝেন না সাধারন মানুষ, তারা চান অণ্যের কাছে হাত না পেতে নিজের সম্বল দিয়েই কাটুক শেষ সময়টুকু।