সাহিত্যে নোবেল পেলেন মার্কিন কবি লুইস গ্লুক

0
200

সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন মার্কিন কবি লুইস গ্লুক। বৃহস্পতিবার সুইডেনের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫টা) সুইডিশ একাডেমি বিশ্বের অত্যন্ত সম্মানজনক এ পুরস্কারের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে।

সুইডিশ অ্যাকাডেমির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্লুককে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে তার সরল ও সৌন্দর্য্যময় ভ্রান্তিহীন কাব্যিক কণ্ঠস্বরের জন্য, যা ব্যক্তির অস্বিত্বকে সর্বজনীন করে তোলে।

সাহিত্যের নোবেলজয়ী এই মার্কিন কবির সর্বাধিক প্রশংসিত কাব্যগ্রন্থের নাম ‘দ্য উইল্ড আইরিস।’ ১৯৯২ সালে লেখা এই কাব্যগ্রন্থের ‘স্নোড্রপস’ নামের এক কবিতায় শীতের শেষে জীবনের অলৌকিক প্রত্যাবর্তনের বর্ণনা দিয়েছেন তিনি। তার এই কবিতা ব্যাপক সাড়া জাগানো হিসেবে সাহিত্য অঙ্গনে সমাদৃত।

১৯৪৩ সালে নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী এ কবি লঙ আইল্যান্ডে বেড়ে ওঠেন। সারা লরেন্স কলেজ, উইলিয়াম কলেজ, কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তিনি শিক্ষকতা করেন। টেকনিকের অভিনবত্ব, সেন্সিটিভিটি তথা স্পর্শকাতরতা তাঁর কবিতার অস্থিমজ্জায়। কবিতার শিল্পপ্রকৌশলগত ভিন্নতার কারণে তিনি বহুল প্রশংসিত। ‘দ্য ট্রায়াম্ফ অব একিলিস’ কাব্যগ্রন্থের জন্য লুইস গ্লুক ‘ন্যাশনাল বুক ক্রিটিকস সার্কেল’ পুরস্কার পান।

সাহিত্যের এই নোবেল জয়ী পুরস্কারের অংশ হিসেবে ১০ মিলিয়ন সুইডিশ (বাংলাদেশি টাকায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা।) ক্রোন পাবেন। ১৯৯৩ সালে টনি মরিসনের পর প্রথম আমেরিকান নারী হিসেবে এই সম্মাননা অর্জন করলেন গ্লাক। 

১৯৬৮ সালে ‘ফার্স্টবর্ন’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে সাহিত্য জগতে উদয় হন লুইজ গ্লাক। এরপর দ্রুত তিনি আমেরিকান সমকালীন সাহিত্যজগতে শীর্ষস্থানীয় কবিদের মধ্যে আসন করে নেন।

১৯৯৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কার এবং ২০১৪ সালে ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছিলেন গ্লাক।

গ্লাকের এ পর্যন্ত ১২টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্যেকটি কাব্যগ্রন্থেই নির্মলতার জন্য সংগ্রামের চিত্র উঠে এসেছে।

১৯০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৫ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন। এবার গ্লাককে নিয়ে এই সংখ্যা ১৬ হলো।

এরপর শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) শান্তিতে এবং আগামী সোমবার (১২ অক্টোবর) অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। এর আগে বুধবার (০৭ অক্টোবর) রসায়ন বিজ্ঞানে, মঙ্গলবার (০৬ অক্টোবর) পদার্থবিজ্ঞানে এবং সোমবার (০৫ অক্টোবর) চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়।

জুলাইয়ের শেষের দিকে নোবেল ফাউন্ডেশন জানিয়েছিল, করোনা ভাইরাসের কারণে এবার ডিসেম্বরে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার রাজকীয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। তবে নোবেলজয়ীরা তাদের নিজ নিজ দেশে বসেই ওয়েবিনারে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নোবেল পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।