সিরাজগঞ্জে পুকুর খনন না করেই কোটি টাকার বিল উত্তোনের অভিযোগ

0
59

এইচ এম মোনায়েম খান:

মৎস উৎপাদন বৃদ্ধি প্রকল্পের নামে সিরাজগঞ্জে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জেলার ৫টি উপজেলায় পুকুর খনন না করেই কোটি টাকা চুড়ান্ত বিল উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। সাথে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগেরও রয়েছে যোগসাজস।

সিরাজগঞ্জ জেলা মৎস্য অধিদপ্তর “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের চলতি অর্থ বছরে ২৪ হেক্টর আয়তনের ৩০টি পুকুর খননের জন্য ৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন মৎস্য অধিদপ্তর।

৩০ জুনের মধ্যে ৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার কাজ শেষ করেন সংশ্লিষ্ঠ ঠিকাদাররা। কাজ শেষ হওয়া পুকুর গুলো দেখতে যমুনা টেলিভিশনের টিম যায় সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কওমি জুটমিল অডিটরিয়াম সংলগ্ন পুকুর পুন:খনন কাজে বরাদ্দ রয়েছে ১০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা, কওমি জুটমিল গুদাম পুকুর পুন:খনন বাবদ বরাদ্দ ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ও কওমি জুটমিল পানির ট্যাংক পুকুর পুন:খনন কাজে বরাদ্দ ৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

তাড়াশ উপজেলার শীতলাই পুকুর পুন:খনন বরাদ্দ ২৩ লাখ টাকা, টাটগাড়ী খাস পুকুর পুন:খনন বরাদ্দ ৮ লাখ টাকা আর জসাই দিঘী পুকুর পুন:খনন বরাদ্দ ১৭ লাখ ৫১ হাজার টাকার চুরান্ত বিল উত্তোলন করেছেন ঠিকাদার গন।

অথচ সরজমিনে মেলেনি কাজের কোন চিহ্ন। এদিকে প্রকল্পগুলোতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। বিল করার ক্ষেত্রে কৌশলে এসব অসহায় মানুষের কাছ থেকে নেয়া হয়েছে স্বাক্ষর।

কাজের উপর ভিত্তি করেই বিল প্রদান করা হয়েছে। অনিয়মের বিষয়টি তদন্তের জন্য ঊর্দ্ধতন কতৃপক্ষকে অবগত করা হবে বলে জানালেন সিরাজগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত দায়িত্ব মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বায়েজিদ আলম।

দেশের দরিদ্র ও বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগের অনিয়ম আর চরম দুর্নীতির কারণে লোপাট হয়ে যাচ্ছে এ প্রকল্পের কোটি-কোটি টাকা। আর ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের মহতী উদ্যোগ।