সিরাজগঞ্জে পুকুর পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ

0
133

এইচ এম মোনায়েম খান : সিরাজগঞ্জে পুকুর পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নামমাত্র খনন করেই তুলে নেয়া হয়েছে বরাদ্দকৃত ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা। মানা হচ্ছে না খননের নির্দেশনাও। তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দাবি, অভিযোগ সঠিক নয়।

সিরাজগঞ্জ জেলার চার উপজেলায় “জলাশয় সংস্কারের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি” শীর্ষক প্রকল্পের চলতি অর্থ বছরে প্রায় ২০ হেক্টর আয়তনের ১৯টি পুকুর খননের জন্য ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেন মৎস্য অধিদপ্তর। ৩০মে এর মধ্যে এই কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। আর চুড়ান্ত বিল প্রদান করতে হবে ২৫জুনের মধ্যে।

পুকুরগুলো হলো তাড়াশ উপজেলার হাটখোলা পুনঃখনন ২০লক্ষ টাকা ,তেতুলিয়া পুকুর পুনঃখনন ১৮লক্ষ ৮০হাজার টাকা, রাজগারি পুকুর পুনঃখনন ১০লক্ষ টাকা , পাকুরিয়া পুকুর পুনঃখনন ১৯লক্ষ ৯০হাজার টাকা, উত্তরজোড় পুকুর পুনঃখনন ১৯লক্ষ ২০হাজার টাকা, দেওকুড়া পুকুর পুনঃখনন ২০লক্ষ টাকা, বড়ধাইগাছি পুকুর পুনঃখনন ১৯লক্ষ ৪৬হাজার টাকা,কাড়ালিয়া পুকুর পুনঃখনন ১৯লক্ষ ২৫হাজার টাকা, শাহজাদপুর উপজেলার হলদিঘর পুকুর পুনঃখনন ৬লক্ষ ১২হাজার টাকা, উল্লাপাড়া উপজেলার পুকুর পুনঃখনন ১০লক্ষ টাকা, ছয় আধারিয়া পুকুর পুনঃখনন ২০লক্ষ টাকা, হাট পুকুর পুনঃখনন ১৮লক্ষ ৪৭হাজার টাকা, পুরান পুকুর পুনঃখনন ১৯লক্ষ ৬০হাজার টাকা, বড়চাতরা পুকুর পুনঃখনন ১৮লক্ষ ২০হাজার টাকা, কাকনদাস পুকুর পুনঃখনন ১৮লক্ষ ২৬ হাজার টাকা, কমল মরিচ পুকুর পুনঃখনন ১৯লক্ষ ৫৪হাজার টাকা, কালিকাদহ পুকুর পুনঃখনন ১৫লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা, বন্ধনগাছা পুকুর পুনঃখনন ১৮লক্ষ ৫৪হাজার টাকা, সদর উপজেলার টুকরা ছোনগাছা পুকুর পুনঃখনন ৮লক্ষ ৭১হাজার টাকা ও মহেশ কাংলা খাল পুনঃখনন ৮লক্ষ ৮৮হাজার টাকা।

প্রতিটি খননের ব্যয় হিসেবে ইতিমধ্যে ৭৫ভাগ বিল প্রদান করা হয়েছে। অথচ সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ব্যপক অনিয়ম। কাজের তুলনায় বিল দেয়া হয়েছে দ্বিগুন। এদিকে প্রকল্পগুলোতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ যাদের সদস্য করা হয়েছে তারা এর বাস্তবায়ন সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ তাদের কার্যক্রম। বিল করার ক্ষেত্রে কৌশলে নেয়া হয়েছে স্বাক্ষর।

অনেক পুকুরে তলায় মাটি না কেটেই পানি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। মৎস্য কর্মকর্তাদের নির্দেশেই পানি ভরাট করা হচ্ছে জানান সদস্যরা। আর পুকুর পাড়ের চারপাশে যেভাবে কাজ করার কথা তা মানা হয়নি।

সুফলভোগীদের অভিযোগ সঠিক সময়ে কাজ না হলে এবছরে মাছ চাষ না হওয়ার আশংকা রয়েছে। অনেক সদসই জানেনা এই প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে। অনেক ঠিকাদার কাজ না করেই এখন বিল তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছে এমন অভিযোগ সদস্যদের।

সিরাজগঞ্জের জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাহবুবুল আলম জানান, সুফলভোগীরাদের মাধ্যমেই কাজ হচ্ছে এবং কাজের উপর ভিত্তি করেই বিল প্রদান করা হয়েছে জানান এই কর্মকর্তা।

দরিদ্র ও বেকার জনগোষ্ঠীর আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার অর্থ বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্ট মৎস্য বিভাগের অনিয়ম আর চরম দুর্নীতির কারণে তা শুধু কাগজে কলমেই থেকে যায়। আর ভেস্তে যায় সরকারের মহতী উদ্যোগ।