সিলেটে গণধর্ষণের ঘটনায় রিমান্ড শেষে আরও তিন আসামি আদালতে

0
182

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রবাসে গৃহবধূকে গণধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার আরও তিন আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে আনা হয়েছে। গত মঙ্গলবার তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। তাঁরা হলেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি, অজ্ঞাতনামা আসামিদের মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া মো. রাজন ও আইনুদ্দিন।

শনিবার বেলা একটার দিকে তাঁদের সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জিয়াদুর রহমানের আদালতে নেওয়া হয়। তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেবেন কি-না তা চিন্তা করে বলার জন্য তাদেরকে আদালত তিন ঘণ্টা সময় দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে আলোচিত এ মামলার অপর তিন আসামি ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও রবিউল ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন তারা। বর্তমানে আরও দুই আসামি রিমান্ডে রয়েছেন।

এর আগে চাঞ্চল্যকর এই মামলায় গ্রেফতার ৮ আসামির প্রত্যেককে ধাপে ধাপে পাঁচদিন করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ।

এদিকে দুপুরে এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসি সেন্টারে ডিএনএ ল্যাবে মামলার অন্যতম আসামি তারেকুল ইসলাম তারেক ও মাহফুজুর রহমান মাসুমকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর তাদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করেন ল্যাবের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) জ্যোর্তিময় সরকার। তিনি বলেন, দুই আসামির ডিএনএ সংগ্রহের পর তাদের ফের পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আটকে রাখে দুইজন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।