সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বদা তৎপর থাকতে বিজিবি সদস্যদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান

0
132

সীমান্ত সুরক্ষায় সর্বদা তৎপর থাকতে বিজিবি সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার সকালে পিলখানা সদর দপ্তরে বিজিবি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ আহবান জানান।

বিজিবি সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে সরকার নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর আধুনিকায়নে সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

দেশের জরুরি পরিস্থিতিতে বিজিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের সাথে ছিটমহল বিনিময়ে, রোহিঙ্গা সংকটে, রামুর বৌদ্ধ পল্লীতে আগুনের ঘটনাসহ বিভিন্ন সময়ে বিজিবি তাদের বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছে। আমি বিজিবির সদস্যদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। আমি আশা করি বিজিবি তাদের শৃঙ্খলা মেনে চলে অনুগত্যের সাথে কাজ করে যাবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, বিজিবির জনবল বড়ানোর লক্ষ্যে ৪৪ হাজার সদস্য থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৫২ হাজার করা হয়েছে। সরকার বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনীর উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধাবোধ, শৃঙ্খলা ও সহানুভূতিশীলতার মাধ্যমে বন্ধন দৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি আমরা সরকার গঠনের ১ মাস ১৯ দিনের মাথায় ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে; যা দ্রুত সমাধান করে আমরা নতুন আইন করি। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পুনর্গঠন করি।’ তৎকালীন বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক সহিংসতা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জনসাধারণের জানমাল রক্ষায় বিজিবির সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সমস্যা, মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা, রামুর বৌদ্ধপল্লির নিরাপত্তা ও পুনর্বাসন, পার্বত্য এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, ছিটমহলবাসীকে পুনর্বাসনে বিজিবির ভূমিকার প্রশংসা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের বীর উত্তম আনোয়ার হোসেন প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন প্যারেড কমান্ডার এবং বিজিবির উপমহাপরিচালক মো. জুলফিকার আলী। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদের সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিদেশি কূটনীতিক এবং পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বীরত্বপূর্ণ ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৫১ জন বিজিবি সদস্যকে পদক প্রদান করেন।