সৌদির চাপেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন সাদ হারিরি

0
115

সৌদি সরকার বিশেষ করে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রবল চাপেই দেশটিতে সফরে যেয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি।

ইরানের প্রভাব খর্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক সংকট সৃষ্টির কারণেই সৌদি শাসকরা এ ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিল। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী গত ৪ নভেম্বর সৌদি আরব সফরে যান এবং হঠাৎ করেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন।

অবশ্য এরপর তিনি ফ্রান্সে গিয়ে ফের লেবাননে ফিরে আসেন এবং পদত্যাগের ইচ্ছা পরিহার করেন। ব্রিটিশ ট্যাবলেট পত্রিকা ডেইলি মেইল এর এক প্রতিবেদন তথ্য জানানো হয়। নিউইয়র্ক টাইমসকে হারিরির বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ট কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন বলে ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়।

তারা বলেন, এমনকি হারিরির পদত্যাগ পত্রটি লিখেও দিয়েছিলেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার পরিকল্পনার জন্যে ইরানকে দায়ী করা হয়।

এ ধরনের দোষারোপ করে মধ্রপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবকে ক্ষুণ্ণ করার কথা ভেবেছিল সৌদি আরব। নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব খর্ব করতেও এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করে সৌদি আরব। সৌদি শাসকরা আশা করেছিলেন, হারিরির পদত্যাগের ঘোষণা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতই মধ্যপ্রাচ্যে সংকট সৃষ্টি করবে।

তবে পশ্চিমা দেশগুলো ও লেবাননের প্রবল চাপে হারিরিকে সৌদি আরব ত্যাগ করতে দিতে বাধ্য হয় দেশটির শাসকরা। হারিরির পরিবারের সঙ্গে সৌদি সরকারের ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত প্রবল। তার বাবা লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি ২০০৫ সালে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত হন। সাদ হারিরি জন্মগ্রহণ করেন সৌদি আরবে এবং দেশটিতে তার ব্যবসা বাণিজ্য রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব লেবাননকে গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ হিসেবে বিবেচনা করে এবং ইরানকে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ হিসেবে মনে করে। হারিরি কোয়ালিশন সরকার পরিচালনা করছেন যেখানে হিজবুল্লাহ রয়েছে।

রয়েছে প্রেসিডেন্ট মিশেল আওন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের পিছনে হারিরির ইচ্ছা রয়েছে এমন অভিযোগে সৌদি আরব তার ওপর বেশকিছুটা মনক্ষুণ্ণ।

গত ৩ নভেম্বর হারিরি ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর রিয়াদের তরফ থেকে তাকে ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে মরুভূমিতে একটি দিন কাটানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়।

নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরো বলা হচ্ছে, পরের দিন অর্থাৎ গত ৪ নভেম্বর সৌদি আরব যাবার পর ক্রাউন প্রিন্সের সঙ্গে যখন হারিরি সকালে বৈঠকে বসেন তখন তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়, সৌদি কর্মকর্তারা অনেকটা তার ওপর চড়াও হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন এবং মাত্র একজন দেহরক্ষীকে সেখানে থাকতে দেওয়া হয়। ওই দিনই বিকেলে একটি সৌদি টেলিভিশনে ক্রাউন প্রিন্সের লিখে দেওয়া পদত্যাগপত্র পড়তে হারিরিকে বাধ্য করা হয়।

৩২ বছরের সৌদি ক্রাউন প্রিন্স ইয়েমেনে নিষ্ঠুর যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছেন। ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ ও সৌদি জঙ্গি বিমানের বোমা বর্ষণ সহ জাতিসংঘের অনুমোদনহীন এ সৌদি আগ্রাসনে তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

ফলে দেশটিতে দুর্ভিক্ষময় পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে অন্তত ৮০ লাখ মানুষ। ১০ লাখেরও বেশি মানুষ খাদ্য ও পানির অভাবে কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে। অবরোধের কারণে দেশটিতে জরুরি ত্রাণ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া ক্রাউন প্রিন্স ইতিমধ্যে তার দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযানে অন্যান্য প্রিন্সসহ শতাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ অভিযানের আড়ালে ক্রাউন প্রিন্স তার ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতে চাচ্ছেন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে এক টুইট বার্তায় বিষয়টি সৌদি আরবের ভবিষ্যতের জন্যে কল্যান বয়ে আনবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট আরেক প্রতিবেদনে জানায়, গত অক্টোবরে ট্রাম্প জামাতা জ্যারেড কুশনার সৌদি আরবে এক গোপন সফরে যেয়ে ক্রাউনপ্রিন্সের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক কৌশল নির্ধারণে ভোর রাত চারটা পর্যন্ত বৈঠক সেরে এসেছেন।