স্বাধীনতার পরও দেশের উন্নয়নে কাজ করেছে আওয়ামী লীগই: প্রধানমন্ত্রী

0
110

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠীর শোষণ থেকে জাতিকে রক্ষার জন্য বাঙ্গালীকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

যুক্তফ্রন্ট সরকারের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুই বাঙ্গালীর উন্নয়নে কাজ করেছেন। স্বাধীনতার পরও এদেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছে আওয়ামী লীগই। আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সকলের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগই একমাত্র দল যারা জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে। কাজেই এই দলকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। তৃণমূলের মানুষের কাছে দলের কর্মকাণ্ড তুলে ধরে এর জনপ্রিয়তা বাড়াতে হবে।’

শনিবার প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তৃতাকালে একথা বলেন। সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কি করেছি এবং কি করতে চাচ্ছি তা জনগণের সামনে তুলে ধরে নৌকা প্রতীকে ভোট চাইতে হবে।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে চলমান স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে জনগণের দোড়গোঁড়ায় তার সরকারের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যও দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান।

দলীয় ঐক্য ধরে রাখার প্রতি গুরুত্বারোপ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘সামনে নির্বাচন, এখানে কোনোরকম দলীয় কোন্দল যেন না হয়, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের গ্রুপ করতে গিয়ে যারা আমাদের মানুষ হত্যা করেছে, নির্যাতন করেছে তাদের নিয়ে দলভারী না করে আপনারা নতুন নতুন কর্মী সৃষ্টি করুন।’

স্বজন হারাবার বেদনা স্মরণ করে আওয়ামী লীগকে নিজের পরিবার হিসেবে আখ্যায়িত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার আর চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলাই আমার একমাত্র স্বপ্ন। আর আপনারা হচ্ছেন সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের এক একজন কারিগর।’

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আগামী সংসদ নির্বাচনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দল নিয়ে বা দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করে প্রার্থী যেই হোক না কেন নৌকার বিজয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

দেশের অর্থনীতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী এবং বাজেটের শতকরা ৯০ ভাগ নিজস্ব অর্থায়নেই বাস্তবায়ন করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার প্রত্যেকটি জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়নকেই উন্নয়নের ক্ষেত্রে সমান গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

তৃণমূলের জনগণের উন্নয়ন তার সরকারের মূল্য লক্ষ্য বলেও এ সময় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সভায় স্বাগত ভাষণ দেন।

দলের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এবং উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সভাটি পরিচালনা করেন। সভার শুরুতেই পার্টির দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোহবান গোলাপ শোক প্রস্তাব পাঠ করেন এবং এরপরই সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

গত ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিশেষ বর্ধিত সভার এদিন ছিল দ্বিতীয় পর্যায়। চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল বিভাগের তৃণমূল নেতৃবৃন্দ এই সভায় অংশগ্রহণ করেন। অন্য বিভাগগুলোর তৃণমূল নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এই বিশেষ বর্ধিত সভার শেষ অংশ আগামী ৭ জুলাই গণভবনে অনুষ্ঠিত হবে।