রাকিব হাসান :

নানা প্রতিকুলতার মাঝে এগিয়ে চলছে দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহক বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট -১ উৎক্ষেপনের কাজ। যার মাধ্যমে নিজস্ব স্যাটালাইটের অধিকারী বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে অাত্মপ্রকাশ ঘটবে বাংলাদেশের।

এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সকল প্রস্তুতি। উৎক্ষেপনের ৭ বছরের মধ্যেই বিনিয়োগের টাকা উঠে আসবে বলে মনে করছেন বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।

বিষয়টি নিয়ে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহন করতে হবে বলে মনে করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রযুক্তির যুগে এটি বাংলাদেশের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পটির ব্যায় ধরা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। স্যাটেলাইটটি নির্মান করেছে ফ্রান্সের থেলেস এলেনিয়া স্পেস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষনা সংস্থা স্পেস এক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটে করেই বঙ্গবন্ধু স্যাটালাইট- ১ পাঠানো হবে মহাকাশে।

স্যাটালাইটে মোট ট্রান্সপন্ডার থাকেব ৪০টি। যার মধ্যে ২০টি ট্রান্সপন্ডার রাখা হবে নিজ দেশের ব্যবহারের জন্য। বাকিগুলো বিক্রি করা হবে বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠানের কাছে।

সঠিকভাবে মহাকাশে পাঠানো গেলে আট দিন পর মহাকাশে বরাদ্ধ পাওয়া ১১৯ দশমিক ১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশের নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছবে স্যাটেলাইটটি । সেখান থেকে নজরদারি চালাতে সক্ষম হবে বাংলাদেশ। পাওয়া যাবে উন্নত জিপিএস ব্যবস্থা, দুর্যোগ সতর্কীকরন বার্তা, গবেষণাসহ বিভিন্ন সুবিধা।

স্যাটালাইটটি উৎক্ষেপন হলে বৈদেশীক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ ড. হাফিজ মুহম্মদ হাসান বাবু।

দেশের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটি পরিচালনার জন্য এরই মধ্যে দক্ষ জনবল তৈরী করা হয়েছে বলে জানান ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

স্যাটালাইটটি স্থপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের যেমন নির্ভরতা কমবে অন্য দেশের উপর, তেমটি দেশের অভ্যন্তরীন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, এগিয়ে যাচ্ছে দেশের প্রযুক্তি। দেশের এগিয়ে যাওয়ার চিত্র তুলে ধরতেই মাইটিভির সাপ্তাহিক আয়োজন উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ।