হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রাতভর বিজিবি’র অভিযান, রকেট লঞ্চারের ১৮ গোলা উদ্ধার

0
83

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ির গহীন বনে অভিযান চালিয়ে রকেট লঞ্চারের ১৮টি গোলা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় এখনো কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

বুধবার সকাল ১১টায় বিজিবি-৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল এসএনএম সামীউন্নবী চৌধুরী বনের অভ্যন্তরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানিয়েছেন। এ সময় অন্যান্য কর্মকর্তাসহ বিজিবি’র শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রকেট লঞ্চারের গোলাগুলো অনেক পুরনো। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের দেড় কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বনের ভেতরে মাটি খুঁড়ে এগুলো রাখা হয়েছিল। গোলাগুলো প্লাস্টিকের কাভারের ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে- সন্ত্রাসীরা এগুলো এখানে এনে রেখেছে। এরপরই সেখানে অভিযান শুরু করা হয়।

লেফট্যানেন্ট কর্নেল এসএনএম সামীউন্নবী চৌধুরী আরও জানান, এ ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে এখনও এগুলোর সঙ্গে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, প্রথমে র‌্যাব ২০১৪ সালের ১ জুন থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দফায় অভিযান চালিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট, রকেট চার্জার, রকেট লঞ্চার, মেশিনগান, প্রায় ১৬ হাজার রাউন্ড বুলেটসহ বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করে।

এরপর একই বছরের ১৬ অক্টোবর থেকে চতুর্থ দফার প্রথম পর্যায়ে উদ্যানের গহীন অরণ্যে মাটি খুঁড়ে তিনটি মেশিনগান, চারটি ব্যারেল, আটটি ম্যাগাজিন, ২৫০টি গুলি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আটটি বেল্ট ও উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি রেডিও উদ্ধার করা হয়।

আবার ১৭ অক্টোবর দুপুরে এসএমজি ও এলএমজির ৮ হাজার ৩৬০ রাউন্ড, রাইফেলের ১৫২ রাউন্ড, পিস্তলের ৫১৭ রাউন্ড, মেশিনগানের ৪২৫ রাউন্ডসহ মোট ৯ হাজার ৪৫৪ রাউন্ড বুলেট উদ্ধার করা হয়। পঞ্চম দফায় ২০১৮ সালের ২ ফেব্রুয়ারি সাতছড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০টি হাই এক্সক্লুসিভ ৪০ এমএম ট্যাংক বিধ্বংসী রকেট উদ্ধার করা হয়।

সর্বশেষ ষষ্ঠ দফায় ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে ১৩টি রকেট লঞ্চারের শেলসহ বেশকিছু বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।