হলি আর্টিজান হামলার ৪ বছর; আসামিদের মৃত্যুদন্ড অনুমোদনের শুনানির জন্য অপেক্ষা

0
221

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ৪ বছর পূর্তি আজ। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে ঢাকার গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় নৃশংস হামলা চালায় জঙ্গিরা।

ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় জঙ্গিরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে দেশি-বিদেশি ২০ জন নাগরিককে। যাঁদের মধ্যে ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, ১ জন ভারতীয় ও ৩ জন বাংলাদেশি। সেই রাতে অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দুই কর্মকর্তাও নিহত হন। ভয়াবহ ওই হামলার ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো দেশ।

দেশের ইতিহাসে বর্বর এ জঙ্গি হামলার পরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী ধারাবাহিক অভিযান শুরু হয়। বিভিন্ন নামে পরিচালিত এসব অভিযানে নিহত হন নব্য জেএমবির অনেকেই এবং অনেকে গ্রেফতারও হন।

এরপর এ হামলার দুই বছরের মাথায় ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ওই বছরের ২৬ নভেম্বর আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমানের আদালতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। টানা এক বছর মোট ১১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে, ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারিক আদালতের রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামি হলেন রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান ওরফে রাফিউল ইসলাম, জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন ওরফে র‍্যাশ, হাদিসুর রহমান সাগর ওরফে সাগর, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও শরিফুল ইসলাম খালেদ। আর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ মামলার অপর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে খালাস দেওয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাত আসামি কারাগারে রয়েছেন। খালাস পাওয়া মিজানুরও অন্য মামলায় কারাগারে রয়েছেন বলে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে আসামিরা জেল আপিল ও আপিল করতে পারেন। সাধারণত ডেথরেফারেন্স ও আপিলের ওপর একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে। তাই নিয়ম অনুসারে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স এবং খালাস চেয়ে করা আসামিদের জেল আপিল শুনানির জন্য পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে বিচারিক আদালতের যাবতীয় নথি তথা মামলার এজাহার, জব্দ তালিকা, চার্জশিট, সাক্ষীদের সাক্ষ্য ও রায়সহ মোট দুই হাজার ৩০৭ পৃষ্ঠার নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয় যা একটি ক্রমিকে ডেথরেফারেন্স (আইন অনুসারে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকর করতে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথরেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত।) হিসেবে সংশ্লিষ্ট শাখায় নথিভুক্ত হয়। তবে শুনানির পরে মামলার যাবতীয় নথিপত্র একত্র করে আপিল শুনানিতে উত্থাপনের জন্য পেপারবুক তৈরি করতে বিজি প্রেসে পাঠান সুপিম কোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখা।

আদালত–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, নথিভুক্ত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শাখা পেপারবুক (চার-পাঁচ হাজার পৃষ্ঠার) তৈরি করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে তা ছাপানোর জন্য সরকারি ছাপাখানায় পাঠায়। এর সঙ্গে দণ্ডিত সাত আসামির জেল আপিল ও দুটি নিয়মিত আপিলও রয়েছে। পেপারবুক আসার পর বিষয়টি প্রধান বিচারপতির নজরে আনা হবে। এর পর তিনি হাইকোর্টের যে বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেবেন সেই বেঞ্চে ডেথরেফারেন্স শুনানি হবে।

হাইকোর্টের আপিল শুনানির বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড সারাবিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেছিল। এই মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স শুনানির জন্য আমরা পদক্ষেপ নেব। মহামারি করোনা দুর্যোগ কেটে গেলে নিয়মিত আদালতে মামলাটি আপিল শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার পদক্ষেপ নেব। মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেন দ্রুত শুনানি করা যায়, তারই প্রচেষ্টা করব।’