আবু সাঈদ অপু :

বর্তমান সময়ে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। আর এ সুযোগে একটি চক্র মানুষের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ-লাখ টাকা। হার্টে রিং স্থাপনের জন্য সরবরাহকৃত রিং সর্ম্পকে ধোয়াশায় থাকছেন রোগী এবং স্বজনরা।

আর জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালে টাকা ছাড়া কোন সেবা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

মানুষের রক্তনালীতে যখন চর্বি জমে জমাট বাঁধে; ঠিক তখনি বুকে অনুভুত হয় ব্যাথা। পরীক্ষা-নীরিক্ষা করতে গিয়ে অনেকের ধরা পড়ে জটিল রোগ। অত;পর তারা দ্বারস্থ হন চিকিৎসকের।

উপায় বা পথ দেখানো হয় দুটি । এক হচ্ছে ওপেন হার্ট সার্জারী। দুই ধমনীর ভেতর স্টেন্ট পড়িয়ে দেয়া; সাধারণভাবে মানুষের মুখে মুখে যেটা রিং নামে পরিচিত। ঝক্কি-ঝামেলা কম ; অল্প সময়ে এ রোগ থেকে ভয়হীনভাবে মুক্তি মেলে। তাই সার্জারির বদলে রিং স্থাপনের আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা বেশি।

ধনী-গরীব সবার আশার স্থল স্বল্পদামে সরকারি কিংবা বেসরকারি হাসপাতালে হার্টে রিং পড়নো। কিন্তু এই রিং আসল না নকল ? গুণগত মানই বা কি ? সেই খোঁজ খবর কেউ কি রাখেন ? আর সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশী নেয়া হচ্ছে কিনা তাও অজানা অনেকের।

সারাবিশ্বে হাতে গোনা ৩ থেকে ৪টি কোম্পানীর রিং গুনগত মানে প্রথম শ্রেণীর। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরও হার্টের রিং নিয়ে বানিজ্য বন্ধ করতে একটি মূল্য তালিকা নির্ধারণ করেছে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের রিংয়ের মূল্য। ২৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে প্রকারভেদে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। কিন্তু এই চিত্র পুরোই উল্টো। মানা হচ্ছে না কোন নিয়ম-নীতি। এমন আভাস পাওয়া গেল জাতীয় হ্নদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে। অপেক্ষমান ব্যবসায়ীরাই বা কি করছেন এখানে।

আর চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের প্রতিটি পদে-পদে গুনতে হয় কষ্টে উপার্জিত টাকা।

সারাদেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে রিং লাগানোর জন্য রাজধানীতে ২৫টি ও রাজধানীর বাইরে ১৪টি ক্যাথ ল্যাব রয়েছে। বাংলাদেশে এর উৎপাদন না হওয়ায় বিদেশ থেকে আমদানী করতে হয় এইসব রিং। তবে দাম বেশি নেয়া হলে পদক্ষেপ কি ?

আর জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কি বলছেন ? আর নিম্নমনের রিং নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে খোদ পরিচালকেরও।