হার্ভির যৌন কেলেঙ্কারি নিয়ে চলচ্চিত্র

0
82

হার্ভি ওয়াইনস্টিন, হলিউডের একসময়ের প্রভাবশালী এক নাম। আর এখন হার্ভি মানেই যেন ‘অশ্লীল’ এক গালি। নিজের কৃতকর্মের জন্য আজ হার্ভির এই হাল। একাধিক নারীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক এই ‘মুভি মুঘল’। এবার তাঁকে নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন পরিচালক ব্রায়ান ডি পালমার।

যে হার্ভি নিজেই একসময় শত শত ছবি প্রযোজনা করেছেন, আজ কিনা তাঁকে নিয়ে ছবি নির্মাণ হচ্ছে। তাও আবার হরর মুভি। ব্রায়ান ডি পালমার সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘এর সঙ্গে জড়িত অনেককে আমি চিনি।’ এখন তিনি হার্ভির এসব ঘটনা নিয়ে একটি ছবির চিত্রনাট্য তৈরির কাজ করছেন।

ধর্ষণ ও অপরাধমূলক যৌন আইনে অভিযুক্ত মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক হার্ভি ওয়াইনস্টিনকে গত ২৫ মে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের কয়েক ঘণ্টা পরই আবার তিনি জামিন পেয়েছেন। তাঁকে ১০ লাখ ডলারে জামিন দেওয়া হয়। তবে জেল থেকে ছাড়া পেলেও পুলিশ তাঁকে সর্বক্ষণ চোখে চোখেই রাখবে। জামিনের সময় হার্ভিকে একটি জিপিএস ট্র্যাকার পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তাঁর গতিবিধির ওপর নজর রাখবে পুলিশ।

হার্ভি এখন পুলিশ আর আদালতের অনুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে যেতে পারবেন না। ৬৬ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র প্রযোজকের পাসপোর্ট পুলিশের কাছে জমা রয়েছে। যদিও হার্ভির আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁর মক্কেল কোনো নারীর সম্মতি ছাড়া যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেননি। আত্মপক্ষ সমর্থন করতে তিনি আদালতে আইনি লড়াই করে যাবেন। কিন্তু যৌন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে হার্ভির ৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে।

গত সাত মাসে ৮০ জন নারী হার্ভি ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন। এর মধ্যে হলিউডের প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী থেকে শুরু করে অনেক উঠতি মডেল ও হার্ভির নিজের প্রতিষ্ঠানের কর্মীও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অভিনেত্রী রোজ ম্যাকগোয়ান অন্যতম। তিনি হার্ভির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। তাঁর এবং অন্য তিনজন নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে হার্ভিকে গ্রেপ্তার করে ম্যানহাটন পুলিশ। হার্ভিকে গ্রেপ্তারের পর রোজ ম্যাকগোয়ান টুইটারে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লেখেন, ‘আমরা তোমাকে ধরে ফেলেছি, হার্ভি।’ এই অভিনেত্রী আরও বলেন, এটি তাঁর জন্য একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। হার্ভির গ্রেপ্তার হওয়া প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে যা ইচ্ছে তা-ই করে গেছেন, তাঁদের মুখে চড় মারার মতো ঘটনা এটি। আর তা সূচনামাত্র। আমি আশা করি, এটি শেষ পর্যন্ত চললে আমরা জয়ী হব।’

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জানান, হার্ভিকে দুটি ধর্ষণ ও একটি অপরাধমূলক যৌন আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের দিন সকালে ম্যানহাটনের থানায় প্রবেশের সময় তাঁর হাতে ছিল তিনটি মোটা বই। সেখান থেকে হাতকড়া পরিয়ে তাঁকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁকে জামিনের শর্ত পড়ে শোনানোর সময় বেশ বিমর্ষ দেখাচ্ছিল। সে সময় শূন্যদৃষ্টিতে এদিক-ওদিক তাকাচ্ছিলেন হার্ভি।

ব্রায়ান ডি পালমার
ব্রায়ান ডি পালমার

হলিউডের সাবেক ‘মুভি মুঘল’ হার্ভি ওয়াইনস্টিনের কুকীর্তি নতুন করে বয়ান করার কিছু নেই। গত বছর যৌন হয়রানি আর ধর্ষণের অভিযোগ আসার পর অস্কার কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হন হার্ভি। এমনকি তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে নিজের প্রতিষ্ঠান দ্য ওয়াইনস্টিন কোম্পানি থেকেও। এদিকে এত কিছুর পরও হার্ভি আশায় বুক বেঁধে আছেন। তাঁর ধারণা, হলিউড একদিন তাঁকে ঠিক ক্ষমা করবে। অ্যাঞ্জেলিনা জোলি, গিনেথ প্যালট্রো, অ্যাশলে জড, কারা ডালাভিনেন, কেট বেকিনসেল, লি সিডু, সালমা হায়েক, জেনিফার লরেন্স, হেদার গ্রাহামসহ অনেক অভিনেত্রী আর মডেলকে বিভিন্ন সময় অনৈতিক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দেন হার্ভি। এমনকি ভারতীয় তারকা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনকেও নিজের শিকার বানাতে চেয়েছিলেন। পরে অবশ্য তা পারেননি। গত বছর অভিনেত্রী রোজ ম্যাকগোয়ান টুইটারে হার্ভির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। এর মধ্যে ব্রিটিশ মডেল ও অভিনেত্রী কারা ডালাভিনেন হার্ভির যৌন নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

যৌন বিকারগ্রস্ত এই চলচ্চিত্র নির্মাতার সঙ্গে মার্কিন টেলিভিশন উপস্থাপক পিয়ার্স মরগ্যান সম্প্রতি দেখা করেন। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হার্ভি বলেন, ‘কোনো নারীর মতের বিরুদ্ধে আমি যৌন সম্পর্ক স্থাপন করিনি।’ অস্কারজয়ী এই নির্মাতা আরও বলেন, ‘আমি একমাত্র খলনায়ক নই। হলিউডে প্রাচীনকাল থেকে এমনটাই হয়ে আসছে। এটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাই বলছি, আমাকে একটু ছাড় দিন।’

‘পাল্প ফিকশন’, ‘মালেনা’, ‘দ্য কিংস স্পিচ’, ‘শেক্‌সপিয়ার ইন লাভ’, ‘মাই উইক উইথ মেরিলিন’, ‘গ্যাংস অব নিউইয়র্ক’ ছবির প্রযোজক হার্ভি ওয়াইনস্টিন। তিনি প্রভাবশালী প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দ্য ওয়াইনস্টিন কোম্পানির প্রধান ছিলেন। ছিলেন মিরাম্যাক্স ফিল্মসের প্রতিষ্ঠাতা। কিন্তু যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়ায় তাঁকে তাঁরই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই শাস্তির পর তিনি ব্যবসা না করে আপাতত পরিবার নিয়েই ব্যস্ত থাকার কথা জানান।