১৪ ডিসেম্বর মুক্ত হয় সিরাজগঞ্জ ও জয়পুরহাট

0
67

১৯৭১ সালের এ দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পাকসেনারা জয়পুরহাটে টিকতে না পেরে পালিয়ে যায় সিরাজগঞ্জের দিকে। কিন্তু সেখানেও মুক্তিকামী বাঙালীর তীব্র প্রতিরোধের মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হয় হানাদাররা।

পরে মুক্তির আনন্দে উড়ানো হয় স্বাধীন বাংলার পতাকা। তবে, আজও স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতিবিজড়িত অনেক স্থানেই কোন ফলক নির্মাণ হয়নি বলে আক্ষেপ জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্ট তুলে ধরছেন নূর মোহাম্মদ।

১৯৭১ সালে পাক সেনারা তৎকালীন মহকুমার জয়পুরহাটে প্রবেশ করেই রাজাকারদের সহায়তায় বিভিন্ন স্থানে চালায় নারকীয় তান্ডব। তাদের হত্যাযজ্ঞের হাত থেকে রক্ষা পায়নি জুমার নামাজে অংশ নেয়া অর্ধশতাধিক মুসল্লিও।

জীবন বাঁচাতে সে সময় পাগলা দেওয়ান এলাকায় ভারতীয় সীমান্তে আশ্রয় নেয় অসংখ্য বাঙালী শরণার্থী। কিন্তু সেখানেও তারা রক্ষা পায়নি। শুধু তাই নয়, কড়ই কাদিপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৪শ মৃৎ শিল্পীকে গণহত্যা করে পাকিস্তানী হানাদাররা।

মুক্তিকামী বাঙালী প্রতিরোধ গড়ে তুললে এক পর্যায়ে পিছু হঠতে বাধ্য হয় পাক সেনারা। পরে ডাক বাংলোয় উত্তোলন করা হয় স্বাধীনতার পতাকা। কিন্তু আজও অনেক রাজাকারের বিচার না হওয়ায় আক্ষেপ করেন মুক্তিযোদ্ধারা।

এদিকে, ১৯৭১ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে পাকিস্তানী বাহিনী সিরাজগঞ্জে প্রবেশ করে। এ সময় বাঘাবাড়ি, ঘাটিনাসহ বিভিন্ন স্থানে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে পড়ে পাকিস্তানীরা। এরপর অন্তত ১০টি স্থানে সম্মুখ যুদ্ধে বিপুল সংখ্যক পাকসেনা নিহত হয়।

সিরাজগঞ্জে মিত্র বাহিনীর সহায়তা না থাকলেও নিজেরাই তৈরি করেন অন্তত ৫শ মুক্তিযোদ্ধার একটি দল। যাদের আত্মত্যাগে মুক্ত হয় সিরাজগঞ্জ। কিন্তু এখনো অনেক স্থানেই স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি বিজরিত স্থানগুলো অরক্ষিত থাকায় আক্ষেপ মুক্তিযুদ্ধের বীর সেনানীদের।

আজকের এই দিনে বান্দরবান ছাড়াও মুক্ত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর আর বরগুনার আমতলী।