প্রস্তাবিত বাজেট জন কল্যাণমুখী; খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রী

0
134

সাইদুর রহমান আবির:

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট জনকল্যানমূখী বাজেট বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেন,জনগনকে কষ্ট দিয়ে নয় সবাইকে সাথে নিয়ে রাজস্ব আদায় করা হবে।

উপস্থাপিত বাজেট নিয়ে সমালোচনা না করে বাজেট বাস্তবায়নে সহযোগিতা করতে সমালোচনাকারীদের প্রতি আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী।ঋন ক্ষেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং শেয়ারবাজারে সুশাসন নিশ্চিত করার কথাও জানান শেখ হাসিনা। বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রীর অসুস্থতায় সংসদে বাজেট বক্তৃতার পর শুক্রবার আবারো বাজেটত্তোর সংবাদ সম্মেলনে সংবাদকর্মীদের মুখোমুখি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সূচনা বক্তব্যের পর প্রস্তাবিত বাজেটকে জনকল্যাণমূখী উল্লেখ করে এর সঠিক বাস্তবায়নে সকলের আন্তরিক সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

প্রশ্নোত্তর পর্বে বাজেট নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজস্ব আদায়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় জনসাধারণের উপর কোন নেতীবাচক প্রভাব পড়বে না বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

ঋণখেলাপি এবং শেয়ারবাজার নিয়েও তার সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বাজেট বাস্তবায়নে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এর আগে অসুস্থ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বৃহস্পতিবার হাসপাতাল থেকে সরাসরি সংসদে এসেছিলেন নিজের প্রথম বাজেট উপস্থাপন করতে। কিন্তু বক্তৃতা শুরু করেও বেশিদূর এগোতে পারেননি তিনি।

তার বাকি বক্তৃতা পড়ে শোনান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন এমনটি নিশ্চিত করেছিলেন তার বড় ভাই আবদুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। এটি দেশের ৪৮তম এবং বর্তমান সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম বাজেট। ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের, সময় এখন বাংলাদেশের’ শিরোনামে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয় পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এটি।

বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। নতুন অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম বাজেট। যদিও গত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নে পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

দাঁড়িয়ে বাজেট বক্তৃতা শুরু করলেও পরে স্পিকারের অনুমতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী নিজ আসনে বসে বাজেট উপস্থাপন করেন। কিন্তু বিকাল ৪টার পর অসুস্থ অর্থমন্ত্রীর পক্ষে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন সম্ভব না হওয়ায় স্পিকারের অনুমতি নিয়ে বাকি অংশ সংসদে উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।