২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ৩,৪৮৯ জন, মৃত্যু ৪৬ জনের

0
363

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ হাজার ৪৮৯ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। একই সময় মারা গেছেন ৪৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ হাজার ৭৩৬ জন।

এ নিয়ে দেশে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭২ হাজার ১৩৪ জন করোনায় সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হলেন। আর মোট মারা গেছেন ২ হাজার ১৯৭ জন এবং মোট সুস্থ হয়েছেন ৮০ হাজার ৮৩৮ জন।

বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

বুধবারের বুলেটিনে বলা হয়, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় রোগী শনাক্তের হার ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ। সবমিলিয়ে, নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এখন পর্যন্ত রোগী শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৭ দশমিক ৯৬ এবং মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৮ শতাংশ। দেশে করোনায় এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পুরুষ ১ হাজার ৭৪১ ও নারী ৪৫৬ জন। শতাংশের হিসাবে পুরুষ ৭৯ দশমিক ২৪ এবং নারী ২০ দশমিক ৭৬ শতাংশ। 

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৪৬ জনের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ, ৮ জন নারী। এদের মধ্যে হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে ৩৮ জনের এবং বাসায় মৃত্যু হয়েছে ১৫ জনের। বিভাগের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে ১৪ জন, ঢাকা বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে ৯ জন, সিলেট বিভাগে ৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ও বরিশাল বিভাগে ৩ জন করে এবং রংপুর বিভাগে ১ জন মৃত্যুবরণ করেন।

মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে ১ জন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৬ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ৬ জন, ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে ৩ জন এবং ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে ১ জন।

বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ হাজার ৮৮৩টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ৭৫টি ল্যাবে আগের নমুনাসহ পরীক্ষা করা হয় ১৫ হাজার ৬৭২টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৮ লাখ ৮৯ হাজার ১৫২টি।

আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গে বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে রাখা হয়েছে ৭৯২ জনকে। এ প‌র্যন্ত আই‌সো‌লেশনে নেয়া হলো ৩৩ হাজার ১৪৩ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৮০৯ জন এবং এ পর্যন্ত ছাড় পেয়েছেন ১৬ হাজার ২৮৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে রয়েছেন ১৬ হাজার ৮৫৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় প্রাতিষ্ঠানিক ও হোম কোয়ারেন্টিন মিলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে ২ হাজার ৬৯১ জনকে। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেয়া হয়েছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ২৯৯ জনকে। গত ২৪ ঘণ্টায় কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৩ হাজার ১৩৪ জন। এ পর্যন্ত মোট ছাড় পেয়েছেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৩০১ জন। বর্তমানে হোম ও প্রাতিষ্ঠানিক মিলিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন ৬২ হাজার ৯৯৮ জন।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা। অনলাইন ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির জন্য আলাদা কবরস্থানের দরকার নেই। সতর্কতা মেনে পারিবারিক কবরস্থানেও দাফন করা যাবে। মৃত ব্যক্তির শরীর থেকে করোনা ছড়ায় না বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

আপনার সুস্থতা আপনার হাতে উল্লেখ করে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সকলকে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চলতে সকলের প্রতি আহবান জানান ডা. নাসিমা সুলতানা।