৫২ বছরের আক্ষেপ আরো দীর্ঘ হলো ইংল্যান্ডের

0
71

৫২ বছরের আক্ষেপ আরো দীর্ঘ হলো ইংল্যান্ডের। ইংলিশদের ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথম বারের মত বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েটদের এই রূপকথার জন্ম দেন মারিও মাঞ্জুকিচ। নির্ধারিত সময়ে ১-১ ব্যবধানে সমতার পর, অতিরিক্ত সময়ে এই অ্যাটাকারের গোলেই নিশ্চিত হয় স্বপ্নের ফাইনাল।

ইংলিশরা খেলার শুরু থেকেই ক্রোয়াটদের চেপে ধরেছিল। ৫ মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় তাঁরা। অন্যদিকে, ক্রোয়াটরা গা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে বিরতির পর। ৬৮ মিনিটে সমতাসূচক গোল করে ক্রোয়েশিয়া। খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। সুযোগ বুঝে ১০৯ মিনিটে জয়সূচক গোলে ফাইনাল নিশ্চিত করে ক্রোয়েশিয়াই।

শুরুটা জয়ের মতোই করেছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের ৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ার ডি-বক্সে ঢোকার মুহূর্তে ডেলে আলিকে ফাউল করে বসেন ক্রোয়েশিয়ার অধিনায়ক লুকা মদরিচ। গোলপোস্টের ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া দুর্দান্ত ফ্রি–কিকে ক্রোয়াটদের বুকে ছুরি চালান কিয়েরান ট্রিপিয়ের। নকআউট পর্বে সরাসরি ফ্রি–কিক থেকে প্রথম গোল এটি। ২২ মিনিটে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেন গোল ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন। ২৯ মিনিটে এসে আবারও গোলের সুযোগ নষ্ট করে ইংল্যান্ড। এবারও কেনের মিস। এরপর প্রতি–আক্রমণে উঠে আসে ক্রোয়েশিয়া। ইংলিশদের ডি–বক্সে ভয় ধরিয়ে দেন আন্তে রেবিচ। তাঁর শট আটকে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। আক্রমণ পাল্টা–আক্রমণে প্রথমার্ধ শেষ হয় ইংল্যান্ড ১-০ ক্রোয়েশিয়া স্কোরলাইনে।

সমতায় ফিরতে মেলা সময় নেয় ক্রোয়েশিয়া। ওই যে বাগানে ফোটা কলিগুলো ফুল হয়ে পাপড়ি মেলেনি তখনো। দ্বিতীয়ার্ধের ৬৮ মিনিটে এসে ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান ইভান পেরিসিচ। সিমে ভরসালিয়োকোর হাওয়ায় ভাসানো ক্রস উঁচুতে উঠে পা ছোঁয়ান পেরিসিচ। ১-১ গোলে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। এর আগে ৬৪ মিনিটে ক্রোয়েশিয়াকে নিশ্চিত গোল থেকে বঞ্চিত করেন ম্যানচেস্টার সিটি ডিফেন্ডার কাইল ওয়াকার। সমতায় ফিরে ক্রোয়েশিয়ার খেলায় গতি আসে। সমতাসূচক গোলের মিনিট দুয়েক পর পেরিসিচের শট গোলপোস্টে লেগে ফিরে না এলে ক্রোয়েশিয়া দুই নম্বর গোলটি তখনই পেত। ৮২ মিনিটে এসে আবারও সুযোগ পায় ক্রোয়েশিয়া। মারিও মানজুকিচের ক্রস থেকে মার্সেলো ব্রোজোভিচের ভলি দুর্দান্তভাবে আটকে দেন ইংলিশ গোলরক্ষক পিকফোর্ড।

এত এত মিসের কী কারণ হতে পারে? কারণ হয়তো একটাই—ভাগ্যদেবী ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে রেখেছে অতিরিক্ত সময়ে। নির্ধারিত সময়ের পর খেলা গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়ের খেলাও প্রায় শেষ, আর ১১ মিনিট বাকি। ইংলিশদের চোখে–মুখে তখন টাইব্রেকারের ভয়। তখনই জয়সূচক গোলটি করেন মারিও মানজুকিচ। কিছু সময় আগেই বল নিয়ে ডি–বক্সে ঢোকার মুহূর্তে পিকফোর্ডের সঙ্গে ধাক্কা লেগে হাঁটুতে ব্যথা পেয়ে কাতরাচ্ছিলেন মানজুকিচ। সেই মানজুকিচের গোলেই জয় পায় ক্রোয়েশিয়া।