আশঙ্কার চেয়েও বেশি ক্ষতিকর কয়লার ব্যবহার

443

কয়লা যে মানবসভ্যতার জন্য ক্ষতিকর তা জানতে আর কারো বাকি নেই। তবে তা কতোখানি ক্ষতিকর তা হয়তো অনেকের অনুমানের মধ্যেও নেই। জীবাশ্ম জ্বালানির মধ্যে কয়লার ধোঁয়াই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর। উত্তর ক্যারোলিনায় বিপুল পরিমাণ কয়লার ছাই নদীগর্ভে পরে যাওয়ার পর এক পরীক্ষায় বেরিয়ে এসেছে তার ভয়াবহতার নতুন তথ্য।

২০১৪ সালে একটি ভাঙ্গা পাইপ দিয়ে বিপুল পরিমাণ কয়লার ছাই ডেন নদীতে পতিত হয়, যা ভার্জিনিয়া থেকে উত্তর ক্যারোলিনা পর্যন্ত বিস্তৃত। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেন, ওই বিষাক্ত ছাই ওই নদীগর্ভের সমস্ত প্রাণবৈচিত্র ভেঙ্গে দিয়েছে।

তারা এ নিয়ে ২০১৫ সালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ইলেট্রন-মাইক্রোস্পোপ দিয়ে পরীক্ষা করে দেখা গেছে নদীগর্ভে ভিন্নরকম এক পার্টিকেলের জন্ম হয়েছে, পানিতে আর্সিনিকের পরিমাণ বেড়ে গেছে এবং তা জীববৈচিত্রের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে গেছে। মাছ ও উদ্ভিদের প্রাণবৈচিত্র তাতে আর স্বাভাবিকভাবে টিকে থাকতে পারছে না।

গবেষক দলের প্রধান হোচেল্লা জানিয়েছেন, আমরা প্রায় একটা কৌতূহলবশতই ওখনে গবেষণা চালিয়েছিলাম। পরে যা দেখলাম তাতে খুব আশ্চর্য হলাম, কোন নরক যে ওখানে চলছে! সমস্ত প্রাণ বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছে।

এতেই বোঝা যায় মানুষের জন্যও কয়লার ধোঁয়া কতোখানি ক্ষতিকর হবে। আমরা জানি কয়লার ধোঁয়া বাতাসে সালফার ডাইঅক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং পারদের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে মানুষের অক্সিজেন ও কার্বন-ডাইঅক্সাইডের সঙ্গে স্বাভাবিক ব্যবহারের তারতম্য ঘটে। যার ফলে দেখা দিচ্ছে অগণিত রোগবালাই।

বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার হিসাব মতে জানা গেছে, বিশ্বে প্রতিবছর বায়ুদূষনের কারনে মারা যায় ৩০ লাখ মানুষ। তার মধ্যে একমাত্র চীনেরই মারা যায় ১৬ লাখ মানুষ। এখনই যদি এর প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসা না যায় তাহলে পৃথিবীর জন্য অপেক্ষা করছে এক ভয়াবহ ভবিষ্যত। তা শুধু জলবায়ুই বিপর্যয় করবে না মানুষের প্রাণের জন্যও বিশাল হুমকিস্বরূপ হয়ে যাবে।
সূত্র: লেজার ইনকয়ারার ও ডব্লিউডেজে সেভেন