নারায়ণগঞ্জে সাত খুন মামলার রায় ২২ আগস্ট

89

নারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণা করা হবে ২২ আগস্ট। এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে গত ২৬ জুলাই হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার (১৩ আগস্ট) রায়ের তারিখ নির্ধারণ করে।  রোববার হাইকোর্ট রায় ঘোষণার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন ২২ আগস্ট।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকার, নজরুলের বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, গাড়ি চালক জাহাঙ্গীর আলম ও চন্দন সরকারের গাড়ি চালক মো. ইব্রাহীম। পরে তাদের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে পাওয়া যায়। ঘটনার একদিন পর কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বাদী হয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা (পরে বহিষ্কৃত) নূর হোসেনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করেন।

অাসামী পক্ষের আইনজীবী মনসুর উল হক জানিয়েছেন, রায় প্রস্তুত না থাকায় এ তারিখ ধার্য করা হয়। বিচারপতি ভবানী প্রসাদসিংহ ও বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করার কথা ছিল। এর আগে এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষ হয়েছে।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মো. আহসান উল্লাহ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সরোয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ।

শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার আবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ড ছিল পূর্ব-পরিকল্পিত। এর সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। তাই এই মামলার রায়ের মধ্যে দিয়ে যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসে।’

এর আগে গত ২২ মে সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত নুর হোসেনসহ আসামিদের নিয়মিত ও জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। গত ৩০ ও ৩১ জানুয়ারি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নুর হোসেন, তারেক সাঈদসহ আসামিরা খালাস চেয়ে হাইকোর্টে আপিল দায়ের করে।

চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন সাত খুন মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা লে. কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬জনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি নয় আসামির সবাইকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।