রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান

193

রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করে তিনি এই আহবান জানান।

রোহিঙ্গাদের ওপর অত্যাচার অমানবিক উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ শান্তি চায়, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। এর আগে সকাল সোয়া ১০টায় বাংলাদেশ বিমানের বিজি ১৯০৯ ফ্লাইটে কক্সবাজার পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিমানবন্দরে প্রধামন্ত্রীকে স্বাগত জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালংয়ে শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যাতে কোনো ধরনের খারাপ আচরণ না করা হয়। রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে ফেরত যেতে পারেন সেজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানানো হবে বলেও প্রধানসন্ত্রী জানান।

তিনি বলেন , প্রতিবেশী দেশ হিসেবে মিয়ানমারের সাথে সু-সম্পর্ক বজায় রেখেই চলেতে চায় বাংলাদেশ, তবে কোন অন্যায় সহ্য করা হবে না বলেও হুশিয়ারী দেন প্রধানমন্ত্রী। কক্সবাজারে কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে রোহিঙ্গাদের উদ্দ্যেশে দেয়া বক্তব্যে, ১৯৭১ সালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করেই আশ্রয় দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের।

রোহিঙ্গাদের উপর সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ তৈরির আহবান জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরির পেছনে যারা রয়েছেন তাদের খুঁজে বের করারও পরামর্শ দেন তিনি।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতিকে পুঁজি করে কেউ যাতে ভাগ্য পরিবর্তনের চেষ্টা করতে না পারে সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে নিজ দেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন শেখ হাসিনা। পরে শরণার্থীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত ২৪ অাগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ঘাঁটিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার অভিযোগে সেখানে নতুন করে সেনা অভিযান শুরু হয়। এর ফলে বাংলাদেশ সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গাদের ঢল নামে।