লেখালেখি যখন ক্যারিয়ার

283

এইচ এম দুলাল:

অনেকেরই প্রশ্ন, লিখব? কীভাবে লিখব? তাদের জন্য লেখালেখি নিয়ে ২য় পর্ব লেখার চেষ্টা করছি। লেখালেখির ক্যারিয়ার গঠনে আপনাকে আমার এ লেখাটি সহযোগিতা করবে এই কামনা করছি।

ব্যবহারিক বিষয়ে লিখুন
আপনার অতি প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়েই লেখালেখি শুরু করতে পারেন। আপনি পেশায় যদি ছাত্র হোন, তা হলে আপনি আপনার অধ্যায়নের বিষয় নিয়েই লেখালেখি শুরু করুন।
অর্থাৎ যে বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ইংরেজি বা বাংলা সাহিত্যের শিক্ষার্থীরা ওই সাহিত্যের উপরই আজীবন লেখালেখি করতে পারেন এবং নিজেকেও একজন প্রতিষ্ঠিত কবি- সাহিত্যিক বা লেখক হিসেবে তৈরি করতে পারেন।

অর্থনীতির ছাত্ররা অর্থনীতি নিয়ে, রাজনীতির ছাত্ররা রাজনীতি নিয়ে, সমাজকর্ম বা সমাজবিজ্ঞানের ছাত্ররা সমাজ নিয়ে, ইতিহাসের ছাত্ররা লিখুন ইতিহাস নিয়ে। ইসলামিক স্টাডিজ যারা পড়ছেন তারা লিখুন ইসলামকে নিয়ে, নৃ-বিজ্ঞানের ছাত্ররা লিখুন মানব সভ্যতার ইতিহাস নিয়ে, যারা আইন পড়ছেন তারা লিখুন আইনের প্রাত্যহিক ব্যবহারিক বিষয়ে, বাণিজ্য বিভাগে যারা পড়ছেন তারা লিখুন দেশ-বিদেশের ব্যবসা- বাণিজ্য নিয়ে।

মেডিকেলের ছাত্ররা লিখুন চিকিৎসা বিষয়ক লেখা, যারা বিজ্ঞানে পড়ছেন তারা লিখতে পারেন বিজ্ঞান এবং তথ্য -প্রযুক্তি লেখা, আপনার পাঠ্য সিলেবাসকে তার রেখে তত্ব এবং তথ্য দিয়েই প্রবন্ধ/নিবন্ধ লিখুন। আর এটা আপনার জন্য এক ঢিলে দুই পাখি মারার কাজ দিবে। পরীক্ষার
খাতা আর পত্রিকার পাতা দু’টিতে আপনি সফল হবেন।

আপনি শিক্ষক? ছাত্রদের জন্য যা করেন ঐ বিষয়ে লেখালেখির মাধ্যমে তা করতে পারেন গোটা জাতির জন্য। তাই আপনিও লিখুন। আপনি যদি ব্যবসায়ী হোন, তা হলে আপনার পণ্যের গুণের কথাই লিখুন যা পড়ে ক্রেতারা আকৃষ্ট হবে। আপনি রাধুনী, লিখুন রান্না কীভাবে করতে হয় । আপনার লেখা পড়ে দেশের গৃহিনীরা রান্না শিখবে। আপনি যদি রাজনৈতিক অঙ্গনে কাজ করেন তা হলে বক্তৃতা শোনান লেখালেখির মাধ্যমে। আপনি যদি ধর্মের প্রচারক হন তা হলে মানুষকে সত্যের লেখালেখির মাধ্যমে। মনে রাখবেন আপনার লেখা আপনার একটি সম্পদ এবং স্থায়ী সংরক্ষণ। যা মানুষকে চিরকাল পথ দেখাবে।

কবিতা লিখুন
আপনি কি কবিতা লিখতে পারেন ? তা হলে কবিতা লিখুন। কবিতার মাধ্যমে ছড়িয়ে দিন মনের কথা। আপনার কবিতাটি হতে পারে সমাজ বিনির্মাণের হাতিয়ার। কবিতার মাধ্যমেই বলতে পারেন গরীব-দুঃখী,নিপীড়িত-নির্যাতিত, বঞ্চিত মানুষের কথা, লিখতে পারেন কুসংস্কার, অনিয়ম আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে, লিখতে পারেন সমাজ, দেশ জাতি তথা সমগ্র বিশ্বকে পরিবর্তনের কথা।
ভাবুন রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল ইসলাম,ফররুখ, জসীম উদ্দীন, জীবনন্দ দাশ, কবি আল মাহমুদ, কীভাবে কবিতা দিয়েই শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেছেন। শেখ সাদী, আল্লামা ইকবাল, ফেরদৌসি হোমার, মিল্টন এদেরকে আমরা মনে রেখেছি আজীবন । বাংলা সাহিত্যের প্রথম নোবেল পুরস্কারটাও এসেছে এই কবিতার মাধ্যমে। তাই সুন্দর কবিতা লেখার মাধ্যমেই শুরু হোক আপনার লেখালেখি।

ছড়া লিখুন-
হ্যাঁ, ছড়ার মাধ্যমেও আপনি লেখক হতে পারেন। মানুষের মনের মধ্যে ছড়ার মাধ্যমে অতি সহজেই প্রবেশ করতে পারা যায়। ছন্দে আর আনন্দ থাকার কারণে সবাই তা পছন্দ করে। বিশেষ করে শিশুরা ছড়াকেই বেশি ভাল বাসে। ছড়ালেখা কোন ছোট্ট বিষয় নয়। প্রায় বড় বড় সকল লেখকেরাই ছড়া লিখতেন। মজার কথা হল মানুষ ছড়াকে মনে রাখে অনেক দিন। একবার ভেবে দেখুন ছোট্ট সময়ে শেখা ছড়াটা লেখকের নামসহই বলতে পারবেন।

সায়েন্স ফিকশন লিখুন –
কল্প কাহিনীতে বিজ্ঞানের গল্প আজকাল সাহিত্যের অঙ্গন বেশ জমে ওঠেছে। ছোট-বড় সবাই এখন সায়েন্স ফিকশনের পাঠক। তাই জনপ্রিয় হতে জনপ্রিয় বিষয়টি দিয়েই আপনার লেখালেখি শুরু করতে পারেন।

ভ্রমণ কাহীনি লিখুন-
অনেক লেখকই রয়েছেন যারা তাদের সুন্দর ভ্রমণ রচনার মাধ্যমেই খ্যাতি অর্জন করেছেন।ইবনে বতুতা,গ্যালিভার ,জুলর্ভানসহ বিশ্ববিখ্যাত পর্যটকদের ভ্রমণ রচনা শুধু ভ্রমণ কাহিনী নয় সর্বকালের জন্য সব ধরনের মানুষের জন্যই প্রযজ্য। ইতিহাস,ভূগোল, তত্ত্ব-তথ্য,সাহিত্য,বিনোদন সবই রয়েছে তাদের ভ্রমণ কাহিনীর ছত্রে ছত্রে। আপনি আপনার ভ্রমণ কাহিনী লিখতে পারেন। এর মাধ্যমেই আপনার চোখ হবে শত-সহস্র জনের চোখ। আপনার মতই আপনার পাঠক ভ্রমণটি জানবে এবং দেখবে । আর আপনার হবে লেখক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ।

রম্যকথা লিখুন-
সবাই কম বেশি চেষ্টা করে হাসিখুশি জীবন । কেউ হাসতে চায় আবার কেউ হাসাতে চায়। হাসিখুশি থাকা এবং রাখা দুটিই অনেকেই অনেক অনেক কষ্টের কাজ বলে মনে করেন । অথচ এই হাসি দিয়েই বিশ্ব ভুবন জয় করেছেন । শ্রদ্ধাভাজন হানিফ সংকেত বা হুমায়ন আহমদকে আমি আপনি সবাই দল মতের ঊর্ধ্বে থেকে ভালবাসি। চার্লি চ্যাপলিনও হেসে এবং হাসিয়ে বিশ্ববাসিকে শিখিয়েছেন,দেখিয়েছেন । হ্যাঁ, তাই আপনাকেই বলছি রম্যকথা লেখার মাধ্যমেও আপনি একজন জনপ্রিয় লেখক হতে পারেন।

স্মৃতিকথা লিখুন-
ফেলে আসা জীবনের প্রতিটা স্মৃতিই হৃদয়কে আন্দোলিত করে। বাস্তবতার কারনেই ব্যস্ত জীবনে আমরা সব স্মৃতিকে ধরে রাখতে পারি না। তাই স্মৃতিকে স্থায়ী ভাবে সংরক্ষণ করতে হৃদয় থেকে খাতায় বা বইয়ের পাতায় নিয়ে আসুন। তাই এ স্মৃতিকথা দিয়েই শুরু করতে পারেন আপনার লেখালেখি।

গান লিখুন-
এমন কণ্ঠশিল্পী কমই রয়েছেন যারা নিজে গান লিখেন। বর্তমানে অনেকেই এর মাধ্যমে অর্থ এবং সম্মান দুটিই পাচ্ছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রেডিও এবং টিভি চ্যানেলের চাহিদার আলোকে পেশাদার গীতিকারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই গান লেখাও হতে পারে আপনার লেখালেখির বিষয়।