পন্টিং, সাঙ্গাকারা, ম্যাককালাম ও গাঙ্গুলির প্যানেলে সাকিব, সুন্দর হোক পথচলা

159

নটরাজ রবিউল:

বাংলাদেশকে  ক্রিকেটে প্রথম বিশ্বসেরার সম্মান আনা ও তার হাত ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেট পৌঁছেছে নতুন উচ্চতায়। এবার বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য আরেকটি বড় সম্মান বয়ে আনলেন তিনি।

পাঠক আপনাদের বুঝতে বাকি নেই কার কথা বলছিলাম। বলছিলাম দেশের গৌরবময় ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কথা। বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার জায়গা পেয়েছেন মেরিলিবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটিতে।

এমসিসি ক্রিকেট কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০০৬ সালে। এই কমিটিতে থাকেন বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটার ও আম্পায়াররা। প্রতি বছর দুই বার করে সভা হয় এই কমিটির। ক্রিকেটের প্রাসঙ্গিক অনেক কিছু নিয়ে আলোচনা করে এই কমিটি। সমসাময়িক ক্রিকেটের আইন-কানুনসহ নানা পরিবর্তন ও ক্রিকেটের ভালো-মন্দ নিয়ে এই কমিটি  ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা  আইসিসিকে  সুপারিশ করে।

আইসিসি সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে বাস্তবায়ন হয় সেই সুপারিশগুলো।  সম্প্রতি ব্যাটের সাইজ থেকে শুরু করে বদলে যাওয়া বেশ কিছু আইনের সুপারিশ যেমন এসেছিল এই কমিটি থেকেই। গত ১৮ সেপ্টেম্বর চিঠি দিয়ে ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা সাকিবকে জানিয়েছে আইসিসি। নতুন কমিটির দায়িত্ব শুরু হয়েছে গত ১ অক্টোবর। এবার কমিটির চেয়ারম্যান সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক গ্যাটিং। বিদায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন আরেক সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইক ব্রিয়ারলি।

অনেক ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘প্রথম’সাকিব। ক্রিকেটের তিন সংস্করণে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে  আইসিসির তালিকায় বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের অতি দুর্লভ খেতাবটিও তার দখলে। তা ছাড়াও তার বর্ণিল ক্রিকেট ক্যারিয়ারে রয়েছে আরো বহু বিশ্ব রেকর্ডের স্বীকৃতি।

তার অর্জনের ঝাঁপিতে আরো একটি অনন্য রত্ন যোগে জাতি গর্বিত। অন্য সব রত্নকে ছাপিয়ে এটি অধিক উজ্জ্বলতর  বলে প্রতীয়মান হয়। ১ অক্টোবর এই কৃতী ক্রিকেটারকে এমসিসি বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেয় ফলে আইসিসিকে সুচিন্তিত মতামত প্রদান করে ক্রিকেটের উন্নয়নে অবদান রাখার  মতো একটি বিরল সুযোগ তৈরি হয়েছে তার জন্য। দেশবরেণ্য এই ক্রিকেটারের এই অর্জনে আমরা আনন্দিত, উচ্ছ্বসিত ও গর্বিত।

লর্ডস ক্রিকেট গ্রাউন্ডের স্বত্বাধিকারী এমসিসি বর্তমানে ক্রিকেট-ঐতিহ্যের ধারক-বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৭৮৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এমসিসির ভাবনা থেকেই ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে বিশ্ব ক্রিকেট কমিটি। পাঠক আগেই বলা হয়েছে বছরে দুইবার কমিটির বৈঠক বসে। কমিটিতে বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি আম্পায়ারদেরও প্রতিনিধিত্ব থাকে।

বর্তমান কমিটিতে সাকিবসহ ১৫ সদস্যের প্যানেলে আছেন মাইক গ্যাটিং, রিকি পন্টিং, কুমার সাঙ্গাকারা, ইয়ান বিশপ, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও সৌরভ গাঙ্গুলির মতো সাবেক আন্তর্জাতিক তারকা ক্রিকেটাররা। এমসিসি সাধারণত বৈশ্বিক ক্রিকেটের আইন প্রণয়নেই নেতৃত্ব দিয়ে থাকে।

সমসাময়িক ক্রিকেটের আইন-কানুনসহ নানা পরিবর্তন ও ক্রিকেটের ভালো-মন্দ নিয়ে তারা আইসিসিকে সুপারিশ করে। তবে এসব সুপারিশ আইসিসির অনুমোদন সাপেক্ষেই বাস্তবায়িত হয়। সম্প্রতি ব্যাটের আকারসহ কার্যকর হওয়া নতুন কিছু আইনও তাহাদের সুপারিশ মেনেই অনুমোদন দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি। সুতরাং গুরুত্বপূর্ণ এমন অবস্থানে সাকিবের উপস্থিতিও বিশ্ব ক্রিকেটের মানোন্নয়নের ধারাকে আরো বেগবান করবে প্রত্যাশা করছি।

সাকিব আল হাসানের এই অর্জনে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হলো। ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করেন, তার এই অর্জন ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপী সার্বজনীন করতেও সহায়ক হবে। এটি দেশের তরুণ প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্যও অনুপ্রেরণাদায়ক। এমন অর্জনের জন্য স্বনামধন্য এই ক্রিকেটারের প্রতি জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আরো সাফল্য কামনা করি।

তার হাত ধরে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ হোক। বাংলাদেশি হিসেবে তার জন্য আমি গরব করছি। এক সাকিবের মধ্যে হাজার সাকিব তৈরি হবে এমন প্রত্যাশা করছি। সুস্থ থাকো সাকিব। বাংলাদেশের ক্রিকেট তোমার ছোঁয়ায় আরো আলোকিত হোক। জয়তু ক্রিকেট। জয়তু সাকিব আল হাসান।