১৯ অক্টোবর থেকে বাংলাদেশে পেইপ্যাল সেবা

122

আগামী ১৯ অক্টোবর অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম পেইপ্যালের সেবা বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে।  যার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় আছেন তথ্য প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সাররা।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ওইদিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে পেইপ্যালের এই সেবার উদ্বোধন করবেন বলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ‍জুনাইদ আহমেদ পলক জানিয়েছেন।

সোমবার প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী ‍জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, প্রাথমিকভাবে সোনালী, রূপালী, সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ নয়টি ব্যাংকের মাধ্যমে পেইপ্যালের এই সেবা পাওয়া যাবে। পরে ধীরে ধীরে তা আরও সম্প্রসারিত হবে।

পেইপ্যাল কর্তৃপক্ষ বেশ কিছুদিন ধরেই বাজার যাচাইসহ নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছিল। এরপর বাংলাদেশের সম্ভাবনার কথা ভেবে তাদের সেবা পুরোপুরি চালু করার সিদ্ধান্ত নেয়। এর ফলে বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সাররা উপকৃত হবেন। মসৃণ হবে ডিজিটাল লেনদেন, বাড়বে রেমিট্যান্স আসার হার যোগ করেন তিনি।

সরকারের প্রতিশ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে এ ধরনের সেবা ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এ ধরনের উদ্যোগের ফলে আমরা ক্যাশলেস সোসাইটির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”

২০২১ সাল নাগাদ তথ্যপ্রযুক্তি খাত থেকে বাংলাদেশের পাঁচ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও পেইপ্যাল সেবা চালুর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন পলক।

সোমবার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নে পলক বলেন, “পেইপ্যাল চালু হলে সোনালী ব্যাংকের ১২০৬টি শাখাসহ অন্যান্য ব্যাংকের হাজার হাজার শাখার মাধ্যমে যে কোনো প্রবাসীর টাকা মাত্র ৪০ মিনিটের মধ্যে তার অ্যাকাউন্টে চলে আসবে। বাংলাদেশে যে লাখ লাখ ফ্রিল্যান্সার আছেন, তারাও সরাসরি ক্লায়েন্টের সঙ্গে লেনদেন করতে পারবেন।”

তিনি জানান, ইতোমধ্যে পেইপ্যালের মাধ্যমে বাংলাদেশে কয়েকশ সফল ট্রানজেকশন হয়েছে। নভেম্বরে তাদের একটি দল আসবে অন্যান্য সম্ভাবনা যাচাই করতে।

“আমাদের ছেলেমেয়েরা বাইরে যারা শ্রম দিচ্ছে, বাংলাদেশে তাদের টাকা নিয়ে আসার জন্য ইনবাউন্ড গেইটওয়েটা ব্যবহার করা হবে। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন টাকাটা যাতে আসতে পারে। দেশ থেকে বাইরে টাকা যাওয়ার ব্যাপারেও আমরা কথা বলছি। বাইরে টাকা পাঠাতে পারলে ফ্রিল্যান্সারদের কিছুটা উপকার হবে। এখন ইআরপি অ্যাকাউন্ট থেকে আমরা ব্যক্তিগতভাবে ১০ হাজার এবং কোম্পানি হিসাব থেকে ৩০ হাজার ডলার পে করতে পারি।”

পেইপ্যালের সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলমান রয়েছে এবং টাকা আনা নেওয়ার বাইরেও নতুন অনেক ধরনের ‘ফাইনানশিয়াল সিস্টেম’ তৈরি হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। বলেন, পেইপ্যাল নতুন কোনো ‘ফাইনানশিয়াল প্রোডাক্ট’ যদি নিয়ে আসে, সেটাও তারা বাংলাদেশে লঞ্চ করবে।

পেইপ্যাল একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান, যারা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর বা লেনদেনে সহায়তা দিয়ে থাকে। বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ ব্যবহারকারী পেইপ্যালের মাধ্যমে ২৬টি দেশের মুদ্রায় অর্থ লেনদেন করতে পারেন।

একটি পেইপ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য কোনো ব্যাংক একাউন্টের ইলেকট্রনিক ডেবিট কার্ড অথবা ক্রেডিট কার্ডের প্রয়োজন পড়ে। পেইপ্যালের মাধ্যমে লেনদেনের ক্ষেত্রে গ্রহীতা পেইপ্যাল কর্তৃপক্ষের কাছে চেকের জন্য আবেদন করতে পারে, অথবা নিজের পেইপ্যাল একাউন্টের মাধ্যমে খরচ করতে পারে অথবা তার পেইপ্যাল একাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক একাউন্টে ওই অর্থ জমা করতে পারে।

বাংলাদেশে পেইপ্যাল এর সেবা শুরুর বিষয়ে আলোচনা চলছে সেই ২০১১ সাল থেকে। বর্তমানে পেজা, স্ক্রিল ও পেওনিয়ার বাংলাদেশে একই ধরনের সেবা দিচ্ছে।