ব্লু হোয়েল আসক্তি থামাতে যা প্রয়োজন

158

মরণঘাতী অনলাইনভিত্তিক গেমস ব্লু হোয়েল নিয়ে তর্ক-বিতর্ক থাকলেও গোটা পৃথিবীতে এমন আত্মঘাতী খেলায় বহু কিশোর-কিশোরীর প্রাণ গেছে। বাংলাদেশেও এমন গেমে হতাশাগ্রস্ত কিশোর-কিশোরীদের আসক্তি লক্ষ্যনীয়। এরইমধ্যে স্বর্ণা নামে এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তাতে ব্লু হোয়েলের আসক্তিকেই দায়ী করা হচ্ছে।

এ অবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, ইন্টারনেট সার্চিং এবং যেকোনো ধরনের গেম খেলার প্রতি শিশু-কিশোরদের ঝোঁক থাকলে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে তাদের আত্মঘাতী হতে প্ররোচিত না করে।

প্রাণঘাতী ব্লু হোয়েল গেম খেলে রাজধানীর সেন্ট্রাল রোডের ১৩ বছর বয়সী অপূর্বা বর্ধন স্বর্ণা নিজ রুমে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে পরিবার থেকেই বলা হচ্ছে।

ব্লু হোয়েল বা নীল তিমি যেমন মৃত্যুর আগে সমুদ্রের তীরে চলে আসে, ঠিক তেমনি ব্লু হোয়েল খেলার বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে ৫০ ধাপে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় গেমে অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরী।

রাশিয়ায় ২০১৩ সালে ‘এফ৫৭’ নামে এ গেমটির প্রচলন শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের পর ফিলিপ বুদেইকিন নামের এক শিক্ষার্থী এ গেম তৈরি করেন। মূল্যহীনদের সমাজ থেকে সরাতেই গেমটি তৈরি করা হয়েছিল বলে দাবি ফিলিপের।

গেম খেলে ১৬ জনের আত্মহত্যার পর ফিলিপকে আটক করা হলেও বিভিন্ন দেশে তা ছড়িয়ে পড়ার খবর জানিয়েছেন তথ্য-প্রযুক্তিবিদরা।

ইন্টারনেটে সার্চ করে বিভিন্ন দেশে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মরণঘাতী ব্লু হোয়েলের আসক্তির তথ্য পেয়েছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ।

অধ্যাপক কায়কোবাদ এ সম্পর্কে বলেন, হতাশাগ্রস্ত তরুণ-তরুণীদের টার্গেট করে এমন গেম তৈরি করা হয়। এ গেম তৈরি করে বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করা হয় এবং যার শেষ পর্যায়ে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আমাদের সমাজেও নানা সমস্যা রয়েছে। আমাদেরকেও সতর্ক থাকতে হবে। অভিভাবকদের তাদের সন্তানদের সচেতন করতে হবে, যাতে তারা হতাশাগ্রস্ত না হয়।

ইন্টারনেট সার্চিংয়ে সচেতনতা দরকার যাতে সন্তানরা এগুলোর মধ্যে ডুবে না যায়, বলেন অধ্যাপক কায়কোবাদ। অনলাইনে ব্লু হোয়েলের আগেও এমন খারাপ গেম এসেছে এবং সেগুলোতে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটতো বলে