যুক্তরাষ্ট্রের পর ইউনেস্কো ছাড়ের ঘোষণা দিলো ইসরায়েল

41

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো থেকে বের হয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এর আগে বৃহস্পতিবার ইউনেস্কোর বিরুদ্ধে ‘ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের প্রতি পক্ষপাত’ দেখানোর অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্র সংস্থাটি থেকে নিজেদের প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়।

পরে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গী হওয়ার ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘সাহসী ও নৈতিক’ অ্যাখা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। ইউনেস্কো ছাড়তে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও পরে এক টুইটে জানান তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০১৮-র ৩১ ডিসেম্বর থেকে তাদের ইউনেস্কো ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। সে পর্যন্ত সংস্থার সব ধরনের কাজে আগের মতই অংশ নেবে তারা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনেস্কো ছাড়ার এ সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংক স্থাটির মহাপরিচালক ইরিনা বোকোভা।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের কাছ থেকে সরকারি নোটিশ পাওয়ার পর ইউনেস্কোর মহাপরিচালক হিসাবে আমি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনেস্কো থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি।”

এ পদক্ষেপকে জাতিসংঘ পরিবার এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও একটি ক্ষতি বলে বর্ণনা করেন বোকোভা।

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইউনেস্কোতে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য তারা একটি পর্যবেক্ষণ মিশন প্রতিষ্ঠা করবে। যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ইউনেস্কোর সদস্য না হয়েও সংগঠনটির বিভিন্ন বিষয়ে অবদান রাখতে পারবে।

“যুক্তরাষ্ট্র হালকাভাবে ইউনেস্কো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইউনেস্কোয় বাড়তে থাকা বকেয়া, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। এ সংগঠনের আমূল সংস্কার প্রয়োজন বলেও যুক্তরাষ্ট্র মনে করে,” বিবৃতিতে বলে তারা।

ইউনেস্কোর কয়েকটি সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের কাছ থেকে সমালোচনারও শিকার হয়েছে। সেসবের প্রেক্ষাপটেই যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত বলে ধারণা বিবিসির।

২০১১ সালে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার প্রতিবাদে ইউনেস্কোয় বাজেট অনুদান বন্ধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এরপর গতবছর পবিত্র স্থান জেরুজালেমের সঙ্গে ইহুদিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি একটি প্রস্তাবনায় উল্লেখ না করায় ইসরায়েল ইউনেস্কোর সঙ্গে সহযোগিতা স্থগিত করে।

এবছর পশ্চিম তীরের পুরোনো হেবরন নগরীকে বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসাবে ঘোষণা করায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইউনেস্কোর সমালোচনা করেন।

তবে ‘ফরেইন পলিসি’ ম্যাগাজিন এক প্রতিবেদনে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনেস্কো ছাড়ার পেছনে আরও একটি উদ্দেশ্য কাজ করেছে- অর্থ বাঁচানো।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠানগুলোতে অন্যান্য দেশের তুলনায় তার দেশ বেশি অর্থ ব্যয় করছে বলে অভিযোগ তুলে সমালোচিত হয়েছেন। জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেটের ২২ শতাংশ এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় ২৮ শতাংশ তহবিল দেয় যুক্তরাষ্ট্র।

ইউনেস্কোয় বর্তমানে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া চলছে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সিদ্ধান্ত জানাল।

ফরেইন পলিসি ম্যাগাজিন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র আসলে কয়েকসপ্তাহ আগে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময়ই ইউনেস্কো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ইউনেস্কোর নতুন নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে অপেক্ষা করতে বলা হয়।

যুক্তরাষ্ট্র এর আগেও প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের সময় ইউনেস্কো থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। তবে পরে তারা প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের আমলে আবার ইউনেস্কোতে যোগ দেয়।