বিচারপতি সিনহার এজলাসে বসতে নারাজ অন্য বিচারকরা

166

দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কাছ থেকে ‘গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা’ না পেয়ে তার সঙ্গে এজলাসে বসতে নারাজ সর্বোচ্চ আদালতের অন্য বিচারকরা। ছুটি নিয়ে বিচারপতি সিনহা বিদেশে যাওয়ার আগে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা প্রত্যাখ্যান করে শনিবার সুপ্রিম কোর্টের বিরল এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধন বাতিলের রায় নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনার মুখে থাকা প্রধান বিচারপতি সিনহা ছুটি নিয়ে শুক্রবার বিদেশে যাওয়ার আগে বলেছিলেন, সরকারের আচরণে বিব্রত হয়ে অসুস্থ না হয়েও ছুটি নিয়েছেন তিনি।

প্রধান বিচারপতির দায়িত্বে থাকা বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিঞাকে উদ্ধৃত করে আইনমন্ত্রীর এক বক্তব্য ধরে বিচারপতি সিনহা বলেছিলেন, বিচার বিভাগের কাজে সরকার হস্তক্ষেপ করছে।

এই প্রেক্ষাপটে শনিবার দুপুরে বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা আপিল বিভাগ ও হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতিদের নিয়ে বৈঠক করেন। তাদের বৈঠকের পরই সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরে বিবৃতিটি আসে।

এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির পদটির মর্যাদা সুমুন্নত রাখতে ইতোপূর্বে সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে কথা না বললেও বিদেশ যাওয়ার আগে বিচারপতি সিনহার লিখিত ‘বিভ্রান্তিমূলক বিবৃতি’ দেখে এই বক্তব্য দিল।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ গত ৩০ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতিদের ডেকে নিয়ে বিচারপতি সিনহার বিরুদ্ধে ‘১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ’ তুলে ধরেন।

বঙ্গভবনের ওই বৈঠক থেকে ফিরে পরদিন আপিল বিভাগের অন্য পাঁচ বিচারপতি বিচারপতি ওয়াহবাব মিয়া, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, মির্জা হোসেন হায়দার, বিচারপতি ইমান আলী নিজেরা বৈঠক করে বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন।

পরদিন তারা প্রধান বিচারপতির হেয়ার রোডের বাড়িতে গিয়ে এই বিষয়ে কথা বললে বিচারপতি সিনহা ‘দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম ও নৈতিক স্খলনের’ ওই অভিযোগগুলোর গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে বিবৃতিতে বলা হয়।

“তার কাছ থেকে কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ও সুদত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতি তাকে সুস্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, এই অবস্থায় অভিযোগসমূহের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকাজ পরিচালনা সম্ভবপর হবে না।”