রোহিঙ্গা ইস্যুতে বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতা চাইতে সরকারকে বিএনপির আহবান

43

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বন্ধু রাষ্ট্রের সহযোগিতা চাওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন, সরকার সঠিক পদক্ষেপ না নেয়ার কারণে রোহিঙ্গারা এখনও বাংলাদেশে আসছে। তাই দ্রæত এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান বিএনপি নেতারা।

শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আলাদা অনুষ্ঠানে এসব দাবি জানান বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু।

এ সময় দুদু বলেন, বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের প্রয়োজনে ও মানুষের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার স্বার্থে আমরা নির্বাচনে যাবো। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলছি, কারও কোনও ক্ষমতা নেই বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখার। কারণ, সামনের যে নির্বাচন এটা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হবে না। এই নির্বাচন হবে গণনির্বাচন। খালেদা জিয়া দেশে ফেরার সময় তাকে গণঅভ্যর্থনা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন,বাংলাদেশ এখন বন্ধুহীন একটি দেশ। বাংলাদেশের কোনও বন্ধু নাই। ভারতও এখন মিয়ানমারকে সমর্থন করছে। এ পরিস্থিতি থেকে বের হতে শেখ হাসিনার পদত্যাগই একমাত্র সমাধান বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, শেখ হাসিনা পদত্যাগ করা মাত্রই দেশে রোহিঙ্গা সংকট ও লুটপাটের সমাধান হবে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।

আমীর খসরু বলেন, যে দেশ (মিয়ানমার) তাদের দেশের একটি জাতিগোষ্ঠীকে নিধন করতে বাংলাদেশকে টার্গেট করে রোহিঙ্গাদের পাঠিয়েছে, তারা খুব ভালো করে জানে- এরা কেউ ভারতে যেতে পারবে না, থাইল্যান্ডে যেতে পারবে না, এরা কেউ চীনের যেতে পারবে না। যেখানে আমার দেশ মিয়ানমারের পরিকল্পিত আক্রমণের শিকার, সেই দেশ যখন পরিকল্পনাকারী দেশের সাথে এক সুরে গান গায়, এক সুরে কথা বলে সেখানেই তো আমাদের অবস্থান শেষ হয়েছে গেছে।

রাখাইনে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর পাল্টা সেনা অভিযানে গত ২৫ অগাস্ট থেকে বাংলাদেশমুখে রোহিঙ্গা ঢল শুরু হয়। প্রথমদিকে সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও এর মধ্যে পালিয়ে অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকে গেলে কয়েকদিনের মধ্যেই সীমান্ত খুলে দেয় সরকার।

একইসঙ্গে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে মিয়ানমারকে সীমান্তে যৌথ অভিযান চালানোর আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ। শুরু থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে ‍সরকার দৃঢ় অবস্থান নিতে পারেনি বলে মনে করছেন বিএনপি নেতা আমীর খসরু।

তিনি বলেন, যদি প্রথম দিন থেকে আপনার (সরকার) অবস্থান মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতেন, কূটনৈতিক অবস্থান নিতেন এবং সাথে সাথে আপনি মানবিক অবস্থান নিতেন তাহলে বিশ্বের সামনে আমাদের অবস্থান ভিন্ন হতে পারত। বাংলাদেশের জনগণ এই ইস্যুতে একতাবদ্ধ ছিল। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে বলেছি, এখানে কোনো রাজনীতি নয়, আমাদের সবাই একতাবদ্ধ হতে হবে।”

রোহিঙ্গা সঙ্কটে সরকার ‘বন্ধুহীন’ মন্তব্য করে আমীর খসরু বলেন, “আমরা দেখেছি, এই অঞ্চলে যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ব্যাপার ছিল সেখানে আমাদের কোনো বন্ধুই নাই। যারা আমাদের বন্ধু বলেছিল এতদিন, এই সরকার প্রচারণা করেছিল তারাও কেউ পাশে আসেনি। বরঞ্চ এরা সবাই মিয়ানমারের পক্ষ নিয়েছে। আমরা একটা বন্ধুহীন অবস্থায় একদিকে।