সবাই ছাদ থেকে লাফ দিলে লাফ দিব না তবে….

130

শারমিন আজাদ:

আইনের বিধান প্রচারের অভাবেই হোক, আর শাস্তি না পাওয়ার কারণেই হোক, রাজধানীতে অবাধে চলছে পাবলিক প্লেসে ধূমপান। ধূমপায়ীদের দাবি, কেউ কিছু বলছে না তাই আইন মানছেন না তারা। নিয়ম ভাঙার এই খেলায় সব বয়সী পুরুষই সমান তালে মেতেছে। বাদ পড়েনি নারীরাও।

যেকোন পার্কে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি হাসপাতালের সামনেও চলছে অবাধে ধূমপান। শিক্ষত তরুণ সমাজও বলছে অবলীলায় ক্লাসে ধূমপান করতে পারি না। তাহলে কোথায় করবো? তাই টিএসসিতে ধূমপান করছি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স করছেন সজীব। অথচ জানেন না, পাবলিক প্লেসে ধূমপান করা নিষেধ আছে আইনে। একই অবস্থা তার সতীর্থদের। তাদের মধ্যে একজন বলেন, এখন যদি বলি সবাই করছে তাই আমিও করছি তাহলে সেটা ঠিক হবে না। তবে ধূমপান করছি। নিয়ম না মানার জন্য দুঃখিত। আরেকজন বললেন, আইন আছে ঠিকই তবে কেউ তো বাধা দিচ্ছে না তাই ধূমপান করছি। ফৌজিয়া বললেন, এ বিষয়ে আমি কিছু বলবো না। কারণ আমি নিজেও স্মোকার।

এই যদি হয় শিক্ষিত তরুণদের হাল, তবে যাদের মাঝে শিক্ষার ছোঁয়া কম তাদের কাছ থেকে কি আশা করা যায়? বলাই বাহুল্য, তারা নির্বিকারে দিচ্ছেন সিগারেটে সুখটান। বিনা সংকোচে বলে দিচ্ছেন, এমন কোন আইন আছে তাতো জানতাম না।

এদের মধ্যে কেউ আছেন সচিবালয়ে কিংবা কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী। তারা বললেন, প্রশাসন তো কিছু বলছে না, তাই খাচ্ছি। আর কারো কারো জবাব, সবাই খাচ্ছে তাই খাচ্ছি পাবলিক প্লেসে। জিজ্ঞেস করা হলো, সবাই যদি ছাদ থেকে লাফ দেয় তাহলে কি আপনিও দেবেন? জবাবে বললেন, না তা দেব না।

বেশিরভাগ মানুষই বলেছেন, জানেন না আইন সম্পর্কে। তাহলে আদতে কি আছে আইনটিতে? ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০৫ ও সংশোধিত ২০১৩ এর ৪ এর ১ এ বলা আছে, পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে ধূমপায়ীকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ধূমপান করতে দিলে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ৫০০ টাকা জরিমানা করার কথাও বলা হয়েছে এই আইনে। এছাড়া আইনের ৮ এর ১ এ আছে পাবলিক প্লেসে ধূমপানবিরোধী সতর্কতামূলক নোটিশ প্রদর্শন না করলে ১০০০ টাকা জরিমানা। এই আইনটি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় বাস্তবায়ন করবে বলে বলা আছে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে।

সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী বললেন, এ আইনটি যখন রাষ্ট্রপতি সই করেছেন তখন থেকেই বাস্তবায়নের যোগ্য। কারণ গেজেট হয়েছে। তাই সবার জানার কথা। তবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরো প্রচারণা দরকার। আরেকজন আইনজীবী বলেন, বিদেশে এ ধরণের আইন পাশের ৩ বছর আগে থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছে যে এমন একটি আইন আসছে। তারপর তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

হাসপাতালের সামনেও প্রকাশ্যে চলছে ধূমপান। এরকম স্থানে কেন ধূমপান করছেন, জানতে চাইলে ধূমপায়ীর জবাব, এখানকার নিয়ম কানুন জানা নেই। আমি ঢাকায় নতুন আসছি। তার মানে ধূমপান নিয়ন্ত্রণ আইন সম্পর্কে তিনি সম্পূর্ণ অজ্ঞাত।

ট্রাফিক পুলিশ বলছে, পাবলিক প্লেসে ধুমপান ঠেকানো তাদের কাজ নয়। পুলিশও এ ব্যাপারে কোন মতামত দেয়নি। তবে প্রকাশ না করার শর্তে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটা ম্যাজিস্ট্রেটের কাজ।

এ আইন বাস্তবায়ন করার কথা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের। সহযোগিতা করবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এসব তথ্যই উল্লেখ আছে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ধূমপান নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ওয়েব সাইটে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি পূরণে ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণ বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে সরকার। পাবলিক প্লেসে ধূমপান বন্ধে আইনও হয়েছে। কিন্তু তার নেই কোন বাস্তবায়ন। এভাবে আর কতদিন?

আরো বিস্তারিত দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন: