ভাঙ্গায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ২ শিক্ষকসহ ১৩ জনকে মারধর

10

ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ২ শিক্ষকসহ ১৩ জনের উপর হামলা চালিয়েছে বখাটেরা। সোমবার সকালে উপজেলার ইকামাতেদ্বীন আলীম মাদ্রাসা কেন্দ্রে জেডিসি পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর এ হামলা চালানো হয়। হামলায় ১৩ জন আহত হয়। হামলাকারীরা ইকামাতেদ্বীন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও তাদের সহযোগী স্থানীয় বখাটে।

আহতরা হলেন ফুকুরহাটি আলীম মাদ্রাসার প্রভাষক আব্দুল জলিল, সহকারী মৌলভী মোহাম্মদ সোনামদ্দিন, পরীক্ষার্থী রোকসানা আক্তার, লতা আক্তার, শাহিনারা শিলা, বিথী আক্তার, কাজলী আক্তার, আসাদুল ফকির, বাকপুরা ইসলামী মিশন মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী তামান্না, সুমন। তাদের বহনকারী ২টি অটো গাড়ির চালক সিরাজুল ইসলাম (২৮) ও রবিউল মৃধা (২৫) ও আগত হন।

এ ব্যাপারে ফুকুরহাটি মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক নুরুল ইসলাম জানান, রোববার পরীক্ষা শেষে ছাত্রীরা পরীক্ষার হল ত্যাগ করার সময় ইকামাতেদ্বীন আলীম মাদ্রাসার কতিপয় স্থানীয় পরীক্ষার্থী তাদের উত্তক্ত করে ও বিভিন্ন প্রকার আপত্তিকর উক্তি করে।

এ সময় শিক্ষার্থীদের পরিবহন করে নিয়ে আসা অটো চালক সিরাজুল ও রবিউল মৃধা ছাত্রীদের বখাটে ও দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাদের আহত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উত্তক্তকারী ছাত্রদের হাত থেকে ছাত্রীদের উদ্ধার করে বাড়ি পাঠানো হয় বলে নুরুল ইসলাম জানান।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ছাত্ররা স্থানীয় কতিপয় বখাটেদের সাথে নিয়ে পরের দিন সোমবার সকালে পুনরায় ওই কেন্দ্রে এসে হলে প্রবেশের আগ মূহুর্তে তাদের উপর অতর্কিতে আক্রমণ চালায় বলেও জানান তিনি।

আহত ফুকুরহাটি মাদ্রাসার প্রভাষক আব্দুল জলিল জানান, দুই শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশের সময় ওঁত পেতে থাকা ইকামাতেদ্বীন আলীম মাদ্রাসার কতিপয় জেডিসি পরীক্ষার্থী তাদের আরো সহযোগীদের নিয়ে হকিস্টিক দিয়ে আমাদের শিক্ষার্থী ও দুই অটো চালকের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। দুই শিক্ষক তাদের ফেরানোর চেষ্টা করলে আমরাও তাদের হামলার শিকার হই। ছাত্র-ছাত্রী ও আমাদের আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অটো চালক সিরাজুল ইসলামকে (২৮) ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অপর অটো চালক রবিউল মৃধা (২৫), পরীক্ষার্থী রোকসানা, লতা আক্তার, শাহিনারা শিলা ও আসাদুল ফকিরকে ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বাকি আহত পরীক্ষার্থীদের দ্রæত প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহনের ব্যবস্থা করা হয়। তবে ৪ পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হওয়ায় তাদের এ বছরের বাকি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এ ব্যাপারে প্রভাষক আব্দুল জলিল বাদি হয়ে ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল হাসান, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কাজী ফয়সাল, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দ আহমেদ জামশেদ, ভাঙ্গা থানা ওসি কাজী সাঈদুর রহমান, ওসি(তদন্ত) মোঃ মিরাজ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সাইফুল হাসান জানান, আহতদের বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে এবং এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না। এদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রদান করা হবে।

ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ মিরাজ হোসেন জানান, এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় একটি মামলা হয়েছে। তাৎক্ষনিকভাবে ঘটনার সাথে জড়িত আজিজুল (২০) নামে এলাকার এক বখাটে যুবককে আটক করা হয়েছে। বাকি অপরাধীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে।