রাজশাহীতে দিন-দুপরে প্রকাশ্যে চলছে অসামাজিক সর্ম্পকের প্রতিযোগিতা

95

মাহবুব সৈকত:
সুস্থ ধারার বিনোদন কে না পছন্দ করে। তবে বিনোদন যদি হয় অসুস্থ; তরুণ সমাজকে করে বিপথগামী তাহলে কি আর করার। বলছি রাজশাহী মহানগরীর শহীদ মনসুর আলীর পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রের কথা। দিন-দুপরে প্রকাশ্যে নির্বিঘ্নে সর্ম্পকের নামে চলছে অসামাজিক সর্ম্পকের প্রতিযোগিতা।

নগরীর মধ্যে আবাসিক এলাকায় সামাজিক সমীকরণের বিরুদ্ধে এমন প্রেক্ষাপট বা পরিস্থিতি কারো কাম্য না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অসহায়ত্ব এইসব অপকর্মের সুযোগ বলে মনে করেন স্থানীয়রা। রাজশাহী ঘুরে সেখানকার সামাজিক পরিবেশের এমন চিত্র দেখা গেল। উপস্থাপন করা হলো সেই দৃশ্য।

এমন দৃশ্য দেখলে চমকে যাওয়ারই কথা যা দেখা যায় পার্কে। তবে অতি রোমান্সকর দৃশ্য দেখে হয়তো বিব্রত হবেন অনেকে। আমার চোখও কিছুটা বিব্রত। মোটামুটি নিশ্চিত হলাম প্রেমের সম্পর্কের দাবিতে স্কুল পড়–য়া মেয়েটিকে জোর করে নিয়ে এসেছে একজন বখাটে।

প্রতিদিনই এমন অসংখ্য ঘটনা – কিংবা দূর্ঘটনার স্বাক্ষী হয় রাজশাহী মহানগরীর শহীদ মনসুর আলীর পার্ক। আবাসিক এলাকায় গড়ে ওঠা এই পার্কটি নির্মল বিনোদনের বিপরীত চিত্রে পরিপূর্ণ- এ কথা এখন শিশু কিশোরদেরও অজানা নয়।

নিস্পাপ শিশুদের কথার সূত্র খুঁজতে আরো গভীরে প্রবেশ করি। অপ্রচারযোগ্য দৃশ্যও ধরা পড়ে । একটি জুটির মুখোমুখি হই। প্রথমে নিজেদেরকে বাঁচানোর চেষ্টা। তবে বয়সের পার্থক্য বলছে, সত্য বলছে বলছে না মহিলাটি। যদিও শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন।

কিন্তু এমন চিত্র দেখে বুঝতে আর অসুবিধা হওয়ার কথা নয় কি হচ্ছে এখানে। একটু খটকা থেকেই গেল, সংঘবদ্ধ কোন গ্রুপ ছাড়া এ ধরনের অসামাজিক কাজ হওয়ার কথা নয়, তাই কয়েকদিন পার্কটির দিকে অনুসন্ধা চালানো হয়।

সন্দেহ সত্যে পরিণত হলো। এবার তাহলে কথা বলা যাক এই চক্রের সাথে। অপরাধীরা নিজেদের নিরপরাধই দাবি করে সব সময়, এরাও তার ব্যাতিক্রম নয়। বিশ টাকা দিয়ে পার্কে প্রবেশ করে হতাশ দর্মনার্থীরা। পার্কের ভিতরে একটি মাত্র টয়লেট থাকলেও তা বন্ধ থাকে সব সময়। আর এই তালা বদ্ধ রুম নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।

নজর পরলোনা কোন নিরাপত্ত¡া কর্মীর। টিকেট কাউন্টারে থাকা একমাত্র ব্যাক্তির কথায় উঠে আসে অসহায়ত্ব। পার্কের একটি অংশ আলাদা করে শিশুদের বিনোদনের যায়গা করার চেষ্টা হলেও তা দখল করছে স্কুল – কলেজ পড়–য়া জুটি।

যদিও মুল পার্ক, অর্থাৎ শহিদ মনসুর আলীর পার্কে পরিবেশ না থাকায় এখানে আসছে বলে দাবী তাদের। এ বিষয়ে কথা বলতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি উর্দ্ধতন কোন কর্মকর্তাকে। কর্মকর্তা শুন্যতায় কাজের স্থবিরতাও ফুটে আরডিএ এর এই কর্তার মুখ থেকে।

শুধু এই পার্কই নয়, ভালো নেই রাজশাহী চিরিয়াখানার পরিবেশও। উদ্বিগ্ন নাগরীক সমাজের প্রতিনিধিরা। শান্তির নগরীতে শালিনতা বিরোধী এই কর্মকান্ড বন্ধে কি বলছেন নগরপিতা ? তবে সামাজিক পরিবেশ সুরক্ষায় আইনশৃংখলা বাহিনী আরো কঠোর ভুমিকা রাখবে বলে আস্বস্ত করেন আরএমপি কমিশনার। নগরবাসী মনে করছেন সামাজিক পরিবেশ সুরক্ষায় দরকার সম্মিলিত প্রয়াস আর কার্যকর পদক্ষেপ ।

বিস্তারিত দেখতে এই লিংকে ক্লিক করুন: