রংপুর রাইডার্সকে আট উইকেটে হারালো রাজশাহী

13

পুঁজি মাত্র ১৩৪। ২০ ওভারের ম্যাচ। প্রতিপক্ষ দুর্বল হলেও এটা বড় কোনো লক্ষ্য নয়। এই পুঁজি নিয়ে জিততে চাইলে শুরু থেকে চাই বোলিংয়ে আগুন। আগুন কিছুটা ঝরলো। কিন্তু লাভ হলো না মাশরাফি বিন মুর্তজা, লাসিথ মালিঙ্গা, আব্দুর রাজ্জাক, থিসারা পেরেরার মতো অভিজ্ঞদের বোলিংয়েও।

খুব সহজে তাই শনিবার বিপিএলের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটের হার মাশরাফির দলের। রাজশাহী কিংস নিল সিলেটে এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে হারের প্রতিশোধ। ১৬.৪ বলেই জয়ের বন্দরে পৌঁছেছে তারা।

হাফ সেঞ্চুরি করেছেন রাজশাহীর দুই ওপেনারই। মুমিনুল হক ৪৪ বলে হার না মানা ৬৩ রান করেন ৪ চার ও ৩ ছক্কায়। লেন্ডল সিমন্স ৫৩ রান করেছেন ৫০ বলে। মেরেছেন ৪টি চার ও ১টি ছক্কার মার। ১৫.২ ওভারে, দলের ১২২ রানে ভেঙেছে তাদের জুটি।

তাও কোনো বোলারের কৃতিত্বে না। রান আউটের শিকার হয়ে সিমন্স বিদায় নেন। ১২৭ রানের সময় ম্যালকম ওয়ালার (৪) পেরেরা শিকার হলেও তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি রাজশাহীর সহজ জয়ের পথে।
এমন একটা সংগ্রহ নিয়ে প্রতিপক্ষের উইকেট নিতে হয় শুরুতেই।

কিন্তু মাত্র ১ রানে দাঁড়ানো তখন মুমিনুল হক। রাজশাহী ওপেনারের দেওয়া সহজ ক্যাচটা নাজমুল ইসলাম ফেলে দেন কিভাবে! এই ম্যাচে কিছুই হয় না রংপুরের! হারের নিয়তি যেন নির্দিষ্ট! সেই মুমিনুলের হাতে ছক্কার মার খান মাশরাফি।

আবার মালিঙ্গার মতো বোলারকে এক ওভারেই ছক্কা মারেন লেন্ডল সিমন্স ও মুমিনুল। ওপেনিং জুটি ভাঙে না। ১৩ ওভার শেষ হওয়ার আগেই ১০০। সহজ এবং বড় জয় পেতে আর কি লাগে! ম্যাচ তারও অনেক আগে তো মাশরাফিদের নাগালের বাইরে। তিন ম্যাচে দুই হার রংপুরের। তৃতীয় ম্যাচে এসে প্রথম জয়ের দেখা পেলো রাজশাহী। ইনজুরিতে ড্যারেন স্যামির অনুপস্থিতিতে সেই জয়টা তারা পেল মুশফিকুর রহীমের নেতৃত্বে।

কিন্তু এই ম্যাচে সত্যি অবাক করেছে মাশরাফির ফেভারিট রংপুর দলের কচ্ছপ গতির ব্যাটিং। ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল তার দল। তখন কিছুটা চাপে। সেই অবস্থায় আরো চাপ তারা নিজেদের দিকে টেনে নেয় পরের ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান তুলে। ১০ ওভারে সংগ্রহ মাত্র ৫৭ রান। এরই পরিণতিতে ১৭ ওভারে ৫ উইকেট ১০০। এমন ধীর ব্যাটিং! শেষের ৩ ওভারে একটু দ্রুত ছোটায় না নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৩৪ রান আসে রংপুরের।

শনিবার সিলেট থেকে ঢাকায় ফিরেছে এবারের বিপিএল। আর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে মাশরাফি জিতলেন টস। ব্যাটিং বেছে নিলেন। কিন্তু তার দল আসলে টি-টুয়েন্টি ব্যাটিং করলো কোথায়! ফেভারিট দল তারা। রাজশাহী কিংসকে সিলেটে হারিয়ে এসেছে সহজে। তবে শেষ ম্যাচে চিটাগং ভাইকিংসের কাছে হার বুঝি চাপে ফেলে দিয়েছে! তারই প্রভাব কি রাজশাহীর মতো মাঝারি মানের এক দলের বিপক্ষে?

স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ম্যাচের প্রথম ওভারটি তুলে দেন অধিনায়ক মুশফিক। আগের ম্যাচের একাদশে ৪টি পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নেমেছেন। রংপুরের পরিবর্তন দুটি। তো মিরাজ তৃতীয় বলেই আঘাত হানেন। ২ রান করেই ফিরে যান জনসন চার্লস। উৎসবে শুরু রাজশাহীর। সেই উৎসব শেষ পর্যন্ত তাদেরই।

চতুর্থ ওভারে জোড়া আঘাত মিডিয়াম পেসার ফরহাদ রেজার। ওপেনার অ্যাডাম লিথকে ৪ রানে ফিরিয়ে দেন। ওটি ওভারের চতুর্থ বল। আর শেষ বলে মিঠুনকে (১৮) শিকার করে ফেলেন ফরহাদ রেজা। ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রংপুর। শাহরিয়ার নাফীস ও রবি বোপারা এরপর আরো সতর্ক। দুজনেই খোলসে ঢুকে পড়ে ব্যাট করতে থাকেন। রাজশাহীর বোলিং বিধ্বংসী কিছু না। কিন্তু নাফীসরা সমীহ দেখিয়েছেন বড় বেশি। রানের চাকাও কোনোমতে ঘুরছিল। খেলার রোমাঞ্চের অভাব তখন খুব। পুরো ম্যাচেই তা থাকলো অনুপস্থিত।

৯ ওভার ব্যাট করে তৃতীয় উইকেট জুটির ৪৯ রান মাত্র! অবাক কা-! নাফীস শেষে ৩১ বলে ২ চারে ২৩ রান করে ত্রয়োদশ ওভারের শেষ বলে ফিরে আসেন কেসরিক উইলিয়ামসের শিকার হয়ে। থিসারা পেরেরা এসেও ঝড় তুলতে পারেন না। যে ঝড় তখন খুব বেশি দরকার রংপুরের।

মাত্র ৪ রান করেই তার বিদায়। ১৭ ওভার শেষে ৫ উইকেটে ১০০ রান রংপুরের! তখন পর্যন্ত তাদের ইনিংসে ছক্কার মার মোটে একটি, বাউন্ডারি ৪টি! আগের দুই ম্যাচে ৩৯ (অপরাজিত ) ও ৩৮ রান করা বোপারাতেই শেষে বলার মতো কোনো স্কোর দাঁড়ায় রংপুরের। ৫১ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।

জিয়াউর রহমানের ব্যাট থেকে আসে অপরাজিত ১১ রান। এতো ছোটো সংগ্রহ নিয়ে ম্যাচ জেতা যায় না। জিততে হলে করতে হতো অসম্ভব ভালো বোলিং। তোপ দাগতে হতো শুরু থেকেই। কিন্তু ব্যাটিংয়ের মতো বোলিংয়েও যে ব্যর্থ মাশরাফির দল! তাই টানা দ্বিতীয় হারের কলঙ্ক তাদের কপালে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর-
রংপুর রাইডার্স : ১৩৪/৫ (২০ ওভার) (জনসন ২, লিথ ৪, মিঠুন ১৮, বোপারা ৫৪*, নাফিস ২৩, পেরেরা ৪, জিয়া ১১*; মিরাজ ১/১৯, সামি ০/১৯, রেজা ২/২৮, উইলিয়ামস ১/৩৪, ফ্রাঙ্কলিন ১/১৪, নিহাদুজ্জামান ০/৯)।

রাজশাহী কিংস : ১৩৮/২ (২০ ওভার) (সিমোন্স ৫৩, মুমিনুল ৬৩*, ওয়ালার ৪, রনি ১০*; মাশরাফি ০/২৭, মালিঙ্গা ০/৩০, রাজ্জাক ০/৩৪, নাজমুল ০/১০, বোপারা ০/১৭, পেরেরা ১/১২, জিয়া ০/৭)।
ফলাফল : রাজশাহী কিংস ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : মুমিনুল হক।